বিশ্বকাপে ফের ‘ভার’ বিতর্ক!
বিশ্বকাপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। জার্মানির গোল বাতিলের ঘটনার পর এ বার আলোচনার কেন্দ্রে বেলজিয়াম–সেনেগাল ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে দেওয়া একটি পেনাল্টি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তির সিদ্ধান্তের শিকার হল কি সেনেগাল?
নির্ধারিত সময়ের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। ম্যাচ কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে বেলজিয়াম। ৮৬ এবং ৮৯ মিনিটে পরপর দু’টি গোল করে সমতা ফেরায় ইউরোপের দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে বেলজিয়ামের অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স বক্সে একটি ক্রসে পা লাগানোর চেষ্টা করেন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সেনেগালের লামিন কামারা তাঁর পায়ে স্পর্শ করেন এবং টিলেমান্স মাটিতে পড়ে যান। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন।
তবে পরে VAR কক্ষ থেকে তাঁকে ঘটনাটি আবার দেখতে বলা হয়। সাইডলাইনের মনিটরে রিপ্লে দেখার সময় থেকেই প্রবল আপত্তি জানাতে শুরু করেন সেনেগালের ফুটবলাররা। তাঁরা রেফারিকে ঘিরে প্রতিবাদ করলেও শেষ পর্যন্ত রিপ্লে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেন ম্যাচ অফিসিয়াল।
এই সিদ্ধান্তে সেনেগালের ক্ষোভ আরও বাড়ে। এক ফুটবলার প্রতিবাদ জানিয়ে পেনাল্টি স্পটের উপর বসে পড়েন। তাঁর দাবি, ওই আক্রমণের আগে তাঁকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। কয়েক মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্পট-কিক নেন টিলেমান্স এবং গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেনেগালের ফুটবলারদের অসন্তোষ অব্যাহত ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, কামারা পিছন থেকে প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করেছিলেন, তাই VAR-এর হস্তক্ষেপ এবং পেনাল্টি— দুই সিদ্ধান্তই সঠিক। অন্যদের যুক্তি, টিলেমান্স নিজেও বলের নাগাল পাননি। তাই সেই পরিস্থিতিতে পেনাল্টি না দিলেও রেফারির সিদ্ধান্তকে ভুল বলা যেত না।
ম্যাচ শেষে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও অবশ্য বিতর্কে জড়াতে চাননি। তিনি বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। ২-০ এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারার কষ্টটাই বেশি। পেনাল্টি নিয়ে অন্যরা আলোচনা করতেই পারেন, কিন্তু আমি সে পথে হাঁটব না।”
তবে অনেকেরই প্রশ্ন, রেফারির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলে শাস্তির আশঙ্কা থাকায় কি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থাকলেন সেনেগাল কোচ? উত্তর যাই হোক, চলতি বিশ্বকাপে VAR-সংক্রান্ত বিতর্ক যে একের পর এক নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?