ভার’ নিয়েই বিশ্বকাপে বিতর্ক, জার্মানির গোল বাতিল!
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বিতর্ক বাড়ছে ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভার’-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে। জার্মানি এবং আইভরি কোস্ট—দুই দলই মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ন্যায্য সিদ্ধান্ত পায়নি। যদিও রেফারিং কমিটির দাবি, নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে প্রতিটি সিদ্ধান্ত।
জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচে তৈরি হয় প্রথম বড় বিতর্ক। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চার বারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে অতিরিক্ত সময়ে জোনাথন তাহের হেড থেকে করা গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয় জার্মান শিবিরে।
ম্যাচের ১০১ মিনিটে তাহের হেড জালে জড়িয়ে যায়। মাঠের রেফারি প্রথমে গোলের অনুমতি দিলেও পরে ‘ভার’-এর পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলান। জার্মানির দাবি, তাদের নিশ্চিত গোল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি ফিফার কাছে অভিযোগ জানানোর কথাও জানিয়েছিল তারা।
তবে ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইগি কলিনা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তাঁর ব্যাখ্যা, গোলরক্ষকের দৃষ্টি বা চলাফেরায় বাধা তৈরি করার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে ফাউল দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনায় ‘ভার’ হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে।
কলিনার মতে, যদি কোনও ফুটবলার শুধু জায়গা ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন, তা হলে সেটি ফাউল নয়। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে গোলরক্ষকের দৃষ্টি আটকানো বা তাঁর গতিবিধি ব্যাহত করার চেষ্টা হলে গোল বাতিল করা যায়।
অন্য দিকে, আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে ম্যাচেও ‘ভার’-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ের পেনাল্টি বক্সে পড়ে যান আইভরি কোস্টের নিকোলাস পেপে। তাঁদের ফুটবলারদের দাবি ছিল, নরওয়ের এক খেলোয়াড়ের বুটের আঘাতে পেপে মাটিতে পড়েছেন এবং এটি স্পষ্ট পেনাল্টির ঘটনা।
কিন্তু মাঠের রেফারি বা ‘ভার’—কেউই পেনাল্টির নির্দেশ দেননি। সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইভরি কোস্টের প্রাক্তন তারকা দিদিয়ের দ্রোগবা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এটা লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত। পেপের ঘটনায় পেনাল্টি না দিলে ‘ভার’ ব্যবহারের অর্থ কী?”
দুই ঘটনাতেই ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখনও পর্যন্ত আইভরি কোস্টের অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েই ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক—‘ভার’ কি সত্যিই ভুল কমাচ্ছে, নাকি নতুন ধরনের বিতর্ক তৈরি করছে, সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?