বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় মেক্সিকো!
বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল আয়োজক দেশ মেক্সিকো। মঙ্গলবার রাতে (ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে) ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করল তারা। আগের ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইকুয়েডরকে এ দিন অবশ্য সেই চেনা ছন্দে দেখা গেল না। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। অন্য দিকে, প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় মেক্সিকো।
বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে শুরু হয় ম্যাচ। কিন্তু আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কাটিয়ে মাঠে নামার পর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধার পাশাপাশি সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপও ছিল তাদের উপর। সেই চাপ সামলে শুরু থেকেই ছন্দে দেখা যায় আয়োজকদের।
ম্যাচের আগের রাতে ইকুয়েডরের ফুটবলারদের বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল মেক্সিকো সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ইকুয়েডরের হোটেলের বাইরে গিয়ে ঢোল, ড্রাম বাজানো এবং আতসবাজি ফাটিয়ে তাঁদের বিশ্রাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছেও অভিযোগ জানায় ইকুয়েডর। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব পড়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।
প্রথম ২০ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার একাধিক সুযোগ পায় মেক্সিকো। তরুণ ফুটবলার গিলবার্তো মোরা দু’টি সুযোগ নষ্ট করেন। রাউল জিমেনেজ়ও একটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তবে মেক্সিকোর আক্রমণের চাপ শেষ পর্যন্ত ফল দেয়।
ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রথম গোল করে মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে উঠে আসেন জুলিয়ান কিনোনেস। বক্সের সামনে এসে ডান দিকে কাট করে নেওয়া তাঁর শক্তিশালী শট ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।
এর পর মাত্র ন’মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ায় মেক্সিকো। বক্সের কাছে নিজেদের মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়ায় বল আদানপ্রদান করেন জিমেনেজ় ও কিনোনেস। শেষ পর্যন্ত নিখুঁত শটে গোল করেন রাউল জিমেনেজ়। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় মেক্সিকো।
দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আক্রমণে সেই আগের ধার দেখা যায়নি। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি তারা। উল্টে মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণ তাদের বার বার আটকে দেয়।
ম্যাচে আরও একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলার মধ্যে মুখ ঢেকে কোনও মন্তব্য করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। এ দিন সেই নিয়মের শিকার হন ইকুয়েডরের হিনক্যাপিয়ে। মেক্সিকোর স্ট্রাইকার সান্তিয়াগো জিমেনেজ়কে মুখ ঢেকে কিছু বলার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভার-এর সাহায্যে দেখে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ তাঁকে লাল কার্ড দেখান।
এই জয়ের ফলে মেক্সিকো উঠে গেল শেষ ১৬-য়। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড বনাম কঙ্গো ম্যাচের জয়ী দল। ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনও ম্যাচ জিতল মেক্সিকো। তবে ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে হলে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে আয়োজকদের সামনে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?