প্রয়াত কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতা!
ভারতীয় নাট্যচর্চার এক স্বর্ণযুগের অবসান। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী ও পরিচালক বিজয়া মেহতা আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভোগার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় নাটক ও সমান্তরাল চলচ্চিত্র জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতীয় আধুনিক নাট্যচর্চার ইতিহাসে বিজয়া মেহতা এক অনন্য নাম। বিশেষ করে মরাঠি নাট্যআন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তিনি পরিচিত। অভিনয় ও নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি শুধু নতুন নাট্যভাষার সূচনা করেননি, বরং মঞ্চকে সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের মনস্তত্ত্ব প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ষাটের দশকে মুম্বইয়ে প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল ‘রঙ্গায়ন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা অরবিন্দ দেশপাণ্ডে এবং শ্রীরাম লাগুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মিলে তিনি এমন এক নাট্যআন্দোলনের সূচনা করেন, যা মরাঠি থিয়েটারের ধারা আমূল বদলে দেয়। নতুন ধরনের নাট্যরীতি, সাহসী বিষয়বস্তু এবং অভিনয়ের অভিনব ভাষা ‘রঙ্গায়ন’-কে ভারতীয় আধুনিক নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
মঞ্চের পাশাপাশি সমান্তরাল চলচ্চিত্রেও বিজয়া মেহতার অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক হিসেবে ‘রাও সাহেব’ (১৯৮৬) এবং ‘পেস্টনজি’ (১৯৮৮) ছবির জন্য তিনি সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। মানবিক গল্প, সূক্ষ্ম চরিত্র নির্মাণ এবং সংবেদনশীল পরিচালনাশৈলী তাঁর ছবিকে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।
অভিনেত্রী হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পার্টি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে আজও বিবেচিত হয়।
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য অভিনেতা, পরিচালক ও নাট্যকর্মীকে অনুপ্রাণিত করেছেন বিজয়া মেহতা। তাঁর নির্দেশনায় গড়ে উঠেছেন বহু শিল্পী, যাঁরা পরবর্তীকালে ভারতীয় নাটক ও চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর নাট্যভাবনা এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে শিক্ষণীয়।
বিজয়া মেহতার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক মহলে শোকের আবহ। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাঁর মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, ভারতীয় নাট্যচর্চার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। তবে তাঁর সৃষ্টি, নাট্যদর্শন এবং শিল্পভাবনা আগামী দিনেও ভারতীয় মঞ্চ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে যাবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?