‘জার্মানিকে নিজেদের খেলাই খেলতে দিইনি’, ঐতিহাসিক জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী প্যারাগুয়ের কোচ

‘জার্মানিকে নিজেদের খেলাই খেলতে দিইনি’ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী থাকল রাউন্ড অফ ৩২। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে…

June 30, 2026
0 min read

‘জার্মানিকে নিজেদের খেলাই খেলতে দিইনি’

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী থাকল রাউন্ড অফ ৩২। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে জার্মানি আগে কখনও টাইব্রেকারে হারেনি, সেই দলকেই স্নায়ুর লড়াইয়ে পরাস্ত করে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।

ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো জানালেন, এই জয় কোনও ভাগ্যের ফল নয়, বরং সুপরিকল্পিত কৌশলের সফল বাস্তবায়ন। তাঁর কথায়, ম্যাচের আগে ফুটবলারদের যে পরিকল্পনা বোঝানো হয়েছিল, তারা মাঠে সেটাই নিখুঁতভাবে কার্যকর করেছে।

আলফারো বলেন, “আমরা জার্মানিকে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে দিইনি। ওদের জায়গা কমিয়ে দিয়েছিলাম। ফুটবলাররা জানত কী করতে হবে, আর তারা সেই দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেছে।”

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর দলের লড়াইয়ের মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন প্যারাগুয়ের কোচ। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জানা ছিল জার্মানিকে থামানো সহজ হবে না। কারণ, এই দল বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। তবু তাঁর ফুটবলাররা এক মুহূর্তের জন্যও লড়াই থেকে সরে আসেননি।

আলফারোর কথায়, “আমার দলের প্রত্যেকে নিজের সেরাটা দিয়েছে। এমন মানসিকতা নিয়ে খেলেছে বলেই এই জয় সম্ভব হয়েছে। এই দলের কোচ হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।”

ম্যাসাচুসেটসের তীব্র গরমে টানা ১২০ মিনিটের লড়াই দুই দলের কাছেই ছিল কঠিন পরীক্ষা। সেই পরিস্থিতিতেও প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা আলাদা করে নজর কেড়েছে। আলফারো মনে করেন, শেষ পর্যন্ত হাল না ছাড়ার মানসিকতাই তাদের জয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

তিনি বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, সেটা আমরা জানি। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবাই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। এত গরমে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়, তবু ছেলেরা একবারও হার মানেনি।”

টাইব্রেকারেও ছিল প্রবল নাটকীয়তা। প্রথম পাঁচটি শটে দুই দলই দুটি করে পেনাল্টি নষ্ট করে। ফলে ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে জার্মানির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

সেই মুহূর্তের উত্তেজনার কথা স্মরণ করে আলফারো বলেন, “মনে হচ্ছিল, কষ্ট না করলে এই জয় আসবে না। শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ পেনাল্টিতে গিয়ে ম্যাচের নিষ্পত্তি হল। এমন নাটকীয় জয়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”

তবে জার্মানিকে হারিয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসে গেলেও সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে প্যারাগুয়ের জন্য। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী দল। আলফারো অবশ্য বিশ্বাস করেন, জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর আত্মবিশ্বাস আগামী ম্যাচেও তাঁর দলের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *