করাচি হামলায় ধৃত জঙ্গির বিস্ফোরক দাবি!
করাচিতে আধাসেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর নতুন করে সামনে এসেছে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। হামলায় জীবিত ধরা পড়া একমাত্র জঙ্গি জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে, আফগানিস্তানে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল এবং সেখানেই হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। যদিও পাকিস্তান এই ঘটনার জন্য ভারতের দিকে আঙুল তুললেও, নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে।
শনিবার রাতে করাচির গুলিস্তান-এ-জওহর এলাকার সিন্ধু রেঞ্জার্স কম্পাউন্ডে আত্মঘাতী হামলা চালায় একদল জঙ্গি। হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনা এবং তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় ধরা পড়ে এক জঙ্গি, যার জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই তদন্তে একাধিক নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃত জঙ্গির নাম উসমান আলি। সে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে পাকিস্তানে এসেছিল। তার সঙ্গে ছিল আব্দুল হাদি, জানান এবং উমর ফারুক নামে আরও তিন জঙ্গি, যারা নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে উসমান দাবি করেছে, সে Tehreek-e-Taliban Pakistan-এর ছায়া সংগঠন Jamaat-ul-Ahrar-এর সদস্য। উল্লেখ্য, হামলার পর ওই সংগঠনই ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত জঙ্গি জানিয়েছে যে আফগানিস্তানে উমর কারি নামে এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক তৈরি ও ব্যবহার শেখানো হয়। এরপর হামলার প্রায় সাত দিন আগে তারা পাকিস্তানের বাজৌর এলাকায় পৌঁছে একটি নির্মীয়মাণ ভবনে আশ্রয় নেয়। সেখানেই হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ওয়াজ়িরিস্তান থেকে আনা হয়েছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে উসমান।
উসমানের বয়ান অনুযায়ী, প্রথমে রেঞ্জার্স কম্পাউন্ডের সামনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। সেই সুযোগে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে মূল ফটক ভেঙে ঘাঁটির ভিতরে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা। এরপর শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তুমুল গুলির লড়াই। পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় উসমান ধরা পড়ে।
হামলার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করে, এর নেপথ্যে ভারতের মদত রয়েছে। তবে ভারত সরকার সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র Randhir Jaiswal বলেন, পাকিস্তানের উচিত অন্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বদলে নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আত্মসমালোচনা করা।
এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। ধৃত জঙ্গির জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে হামলার সম্পূর্ণ নেপথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেও এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?