দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স!
বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের বিধ্বংসী হ্যাটট্রিক এবং কিলিয়ান এমবাপের অসাধারণ পারফরম্যান্সে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষে শেষ করল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্য দিকে, ১০ জনের ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে নকআউটে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখল সেনেগাল। ম্যাচ শুরুর আগে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এমবাপে-দেম্বেলে ঝড়ে বিধ্বস্ত নরওয়ে
দিদিয়ের দেশঁর অনুপস্থিতিতে মাঠে নামা ফ্রান্স শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ব্যক্তিগত কারণে দলের কোচ মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর দলের খেলায় কোনও ছন্দপতন দেখা যায়নি।
ম্যাচের মাত্র ২৫ সেকেন্ডের মাথায় এমবাপের শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ফ্রান্সকে। সপ্তম মিনিটেই এমবাপের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে।
২০ মিনিটে আবারও এমবাপে-দেম্বেলে জুটি নরওয়ের রক্ষণ ভেঙে দেয়। মাঝমাঠ থেকে এমবাপের বাড়ানো বল পেয়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন দেম্বেলে।
এর পর ৩২ মিনিটে পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক। অঁরেলিয়েঁ চুয়ামেনির পাস থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নরওয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন প্যারিস সঁ জরমঁর তারকা।
এই হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। এর আগে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্ট ২৪ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
এ বারের বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসি এবং কানাডার জোনাথন ডেভিডের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসাবে হ্যাটট্রিক করলেন দেম্বেলে।
নরওয়ে অবশ্য এক বার ব্যবধান কমিয়েছিল। দেম্বেলের দ্বিতীয় গোলের পরেই থেলোগার্ড গোল করে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের দাপটের সামনে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে হেডে চতুর্থ গোল করেন ডেজ়িরে ডুয়ে।
নরওয়ের হয়ে হালান্ডকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ স্টাল সোলবাকেন। তাঁর অনুপস্থিতি আক্রমণে বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও ফ্রান্সের গোলের সুযোগ নষ্টের প্রবণতা কঠিন ম্যাচে চিন্তার কারণ হতে পারে।
গ্রুপ সেরা হয়ে পরের রাউন্ডে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সুইডেন। অন্য দিকে, নরওয়ে রানার্স হয়ে সম্ভবত আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে।
ইরাককে হারিয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল সেনেগাল
গ্রুপ ‘আই’-এর অন্য ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারাল সেনেগাল। তবে তৃতীয় স্থানে শেষ করায় তাদের নকআউটে যাওয়া এখন নির্ভর করছে অন্য গ্রুপের ফলাফলের উপর।
ম্যাচের ১৩ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় ইরাক। সাদিয়ো মানেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন রেবিন সুলাকা। ১০ জনের ইরাকের বিরুদ্ধে তখন থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনেগাল।
চতুর্থ মিনিটেই অবশ্য হাবিব দিয়ারা গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন সেনেগালকে।
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল আসে। ৫৬ মিনিটে ইসমাইলা সার ব্যবধান বাড়ান। ৫৯ মিনিটে পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করেন পাপে গেয়ে। ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে ৮২ মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ে পঞ্চম গোল করেন।
বড় ব্যবধানে জিতেও এখন সেনেগালের ভাগ্য অন্য দলগুলির ফলের উপর নির্ভর করছে। তবে এই জয় তাদের বিশ্বকাপের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?