বিশ্বকাপে ফিরেই মেসির প্রশংসায় নেমার!
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরলেন নেমার। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামেন ব্রাজ়িলের তারকা। প্রায় ২৪ মিনিট খেলেছেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে তাঁর মুখে উঠে এল আর এক মহাতারকার নাম— লিয়োনেল মেসি।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের ফুটবলার হলেও মেসি ও নেমারের বন্ধুত্ব বহু পুরনো। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা এখনও অটুট। বিশ্বকাপের আবহেও সেই বন্ধুত্বের কথা বলতে ভুললেন না নেমার।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। ইতিমধ্যেই পাঁচটি গোল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একাধিক রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। মেসিকে নিয়ে নেমার বলেন, “মাঠে মেসি অত্যন্ত ভাল মানুষ। আর মাঠের বাইরে ও কেমন, সেটা সহজেই বোঝা যায়। ও অসাধারণ একজন বন্ধু। ও জানে, আমি ওকে কতটা ভালবাসি।”
নেমারের মতে, মাঠের বাইরের মেসিই তাঁকে আরও বেশি মুগ্ধ করেন। তিনি বলেন, “মেসি মাঠের বাইরে আরও ভাল মানুষ। ওর সঙ্গে পরিচয় রয়েছে, একসঙ্গে খেলেছি— এ জন্য আমি খুব খুশি। ওর সঙ্গে কথা হয়। গত কয়েক দিন ধরেও আমাদের কথা হয়েছে।”
বার্সেলোনায় ২০১৩ সালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মেসির সঙ্গে নেমারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। পরে লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত ‘এমএসএন’ আক্রমণভাগ। ২০১৫ সালে এই ত্রয়ী বার্সেলোনাকে জিতিয়েছিল ঐতিহাসিক ত্রিমুকুট। সেই সময় মেসির কাছ থেকে অনেক পরামর্শ পেয়েছিলেন নেমার।
২০১৭ সালে নেমার বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সঁ জরমেঁ-এ যোগ দেন। কয়েক বছর পরে ২০২১ সালে সেই ক্লাবেই যোগ দেন মেসি। আবারও দুই বন্ধুর দেখা হয় একই ড্রেসিংরুমে। ক্লাব বদলালেও তাঁদের সম্পর্কের বন্ধন কমেনি।
এ দিকে, নেমারের আর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফর্মুলা ওয়ান তারকা লুইস হ্যামিল্টনও তাঁকে ম্যাচের আগে উৎসাহ দিয়েছিলেন। হ্যামিল্টন সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “নেমার, মনে রেখো তুমি কে।” ম্যাচ শেষে সেই একই বার্তা লিখে জবাব দেন নেমার। পাল্টা হ্যামিল্টন জানান, সব সময় নিজের পরিচয় মনে রাখতে হবে।
দীর্ঘ চোটের পর দেশের জার্সিতে ফেরার মুহূর্তটা সহজ ছিল না নেমারের জন্য। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “হৃদ্স্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। খুব চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন খুব খুশি। সব কিছু ভাল ভাবে হয়েছে। আমরা জিতেছি। দলকে নিয়ে গর্বিত।”
৯৮১ দিন পর ব্রাজ়িলের জার্সিতে ফিরে নেমারের চোখে ছিল আবেগ। আর সেই আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের রাতেই মেসিকে নিয়ে তাঁর প্রশংসা প্রমাণ করল— মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দুই কিংবদন্তির বন্ধুত্বের জায়গাটা এখনও আলাদা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?