৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজ়ুয়েলা!
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজ়ুয়েলা। প্রথম কম্পনের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ফের কেঁপে উঠল গোটা দেশ। বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রথমে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৭.৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। পরপর দুই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস এবং বন্দরনগরী লা গুয়াইরা। বহু বাড়ি ও বহুতল আংশিক বা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতায় উদ্ধারকাজে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ভূমিকম্পের জেরে কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। রানওয়ের একাংশ বসে যাওয়ায় আপাতত বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে মৃত বা আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হয়েছে, এই বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে এক লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। যদিও এই হিসাব সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে তৈরি এবং প্রকৃত সংখ্যা জানতে আরও সময় লাগবে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ক্যারিবিয়ান সাগর উপকূলবর্তী মরন অঞ্চল, যা কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২২ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল প্রথমটির কাছাকাছি, মরন এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে, এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অল্প গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় কম্পনের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হয়েছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদেরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রশাসনের সব বিভাগকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে আরও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের নিরাপদে সরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েসদাদো ক্যাবেলো জনগণকে ধৈর্য ধরার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়েই সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
ভেনেজ়ুয়েলার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে এখন নজর রয়েছে সেদিকেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?