বিশ্বকাপে গোলের বন্যা, ৪০ ম্যাচেই ১২১! কেন এত আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা যাচ্ছে এ বার?

বিশ্বকাপে গোলের বন্যা ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, নাটক আর গোলের অপেক্ষা। তবে এ বারের আসরে সেই উত্তেজনা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪০টি ম্যাচে হয়েছে ১২১টি গোল।…

June 24, 2026
1 min read

বিশ্বকাপে গোলের বন্যা

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, নাটক আর গোলের অপেক্ষা। তবে এ বারের আসরে সেই উত্তেজনা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪০টি ম্যাচে হয়েছে ১২১টি গোল। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে তিনটিরও বেশি গোল। মাত্র দু’টি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। ফলে সমর্থকদের জন্য এবারের বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে একের পর এক গোলের উৎসব।

গত বিশ্বকাপের একই পর্যায়ের তুলনায় এ বার গোলের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এমন গতিতে গোল হতে থাকলে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোল হওয়া বিশ্বকাপের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে এই আসর।

এত বেশি গোলের পিছনে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখছেন। প্রথমত, এবারের বিশ্বকাপের জন্য তৈরি বিশেষ বল। ‘ট্রিয়ন্ডা’ নামের এই বলের গভীর সেলাই এবং নকশার কারণে গতি ও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। ফলে দূরপাল্লার শট, দ্রুত আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বেশি।

দ্বিতীয়ত, ম্যাচের সময়ও বেড়েছে। জলপানের বিরতি, চোট বা অন্যান্য কারণে অতিরিক্ত সময় যোগ হওয়ায় অধিকাংশ ম্যাচই ৯৬ মিনিটের বেশি গড়াচ্ছে। ফলে দলগুলি আক্রমণের জন্য আরও বেশি সময় পাচ্ছে এবং শেষ মুহূর্তেও গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তৃতীয় কারণটি হল এবারের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণের ফলে প্রতিযোগিতার পরিসর বেড়েছে। নতুন দলগুলি নিজেদের প্রমাণ করতে আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। অন্য দিকে বড় দলগুলিও শুরু থেকেই গোলের ব্যবধান বাড়াতে চাইছে।

এই গোল উৎসবের অন্যতম নেপথ্য নায়ক ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে খেলা ফুটবলারেরা। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত হওয়া গোলের প্রায় অর্ধেক এসেছে এই লিগগুলিতে খেলা ফুটবলারদের পা থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ।

প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলাররা এখনও পর্যন্ত করেছেন ২৮টি গোল। সুইডেনের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের ৫-১ জয়ের ম্যাচে ছ’টি গোলই এসেছিল ইংলিশ লিগে খেলা ফুটবলারদের কাছ থেকে। আর্সেনালের ব্রাজিলীয় তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিও মনে করেন, প্রিমিয়ার লিগের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ফুটবলারদের আরও প্রস্তুত করে তোলে।

ক্লাবের হিসাবেও নজর কাড়ছে ইউরোপের বড় দলগুলি। রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলাররা এখনও পর্যন্ত করেছেন সাতটি গোল। তাদের হয়ে কিলিয়ান এমবাপে চারটি, ভিনিসিয়াস জুনিয়র দু’টি এবং জুড বেলিংহ্যাম একটি গোল করেছেন।

লিভারপুলের ফুটবলারদের অবদানও কম নয়। কোডি গাকপো, ভার্জিল ফান ডাইক, মহম্মদ সালাহ এবং আলেকজান্ডার ইসাকের মতো ফুটবলাররা গোলের তালিকায় নিজেদের নাম তুলেছেন। অন্য দিকে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা লিয়োনেল মেসিও একাই করেছেন পাঁচটি গোল।

এ বারের বিশ্বকাপের ছবি বলছে, আধুনিক ফুটবল এখন আরও দ্রুত, আক্রমণাত্মক এবং গোলমুখী হয়ে উঠেছে। নতুন প্রযুক্তি, দীর্ঘ সময়ের ম্যাচ এবং বিশ্বসেরাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা মিলিয়ে মাঠে তৈরি হচ্ছে একের পর এক গোলের মুহূর্ত।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *