সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের উত্তেজনা!
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় Indus Waters Treaty বা সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র বক্তব্য দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khawaja Asif। তাঁর দাবি, জল কেবল অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত সম্পদ নয়, এটি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সেই কারণে প্রয়োজন হলে ভারতবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, এমনকি যুদ্ধের পথেও হাঁটতে পারে ইসলামাবাদ।
এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই জলসংকটের মুখে রয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় যে ভারত নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দিচ্ছে বা জল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে, তবে সেটিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে। তাঁর কথায়, “জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হলে পাকিস্তান অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি?
১৯৬০ সালে Jawaharlal Nehru এবং Ayub Khan-এর আমলে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সিন্ধু জলচুক্তি। এই চুক্তির অধীনে:
- পূর্বাঞ্চলের নদী Sutlej River, Beas River এবং Ravi River-এর জল ব্যবহারের প্রধান অধিকার ভারতের।
- পশ্চিমাঞ্চলের Indus River, Jhelum River এবং Chenab River-এর জল পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত।
দীর্ঘ দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত হলেও এই চুক্তি কার্যকর ছিল।
উত্তেজনা বাড়ল কেন?
২০২৫ সালে Pahalgam-এ জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi বলেছিলেন, “রক্ত এবং জল একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।”
এর পর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি উত্থাপন করে আসছে। সম্প্রতি ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী CR Patil ইঙ্গিত দেন যে ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হতে পারে। সেই মন্তব্যের পরই পাকিস্তানের তরফে আরও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বাস্তব পরিস্থিতি কী?
সিন্ধু অববাহিকার জল পাকিস্তানের কৃষি, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চুক্তি সংক্রান্ত যেকোনও পরিবর্তন ইসলামাবাদের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাস্তব নীতিগত পদক্ষেপের মধ্যে পার্থক্য থাকে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চললেও, যুদ্ধসংক্রান্ত মন্তব্যকে মূলত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জলবণ্টন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা— এই তিনটি বিষয়ই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?