বিশ্বকাপে কমলা ঝড়ের পর নীল ঝড়, বড় জয় নেদারল্যান্ডস-জাপানের!
বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক চমক। কোথাও বড় দলের দাপট, কোথাও ছোট দলের অবিশ্বাস্য লড়াই। রবিবারের ম্যাচগুলিতে নেদারল্যান্ডস, জাপান নিজেদের শক্তি দেখিয়ে বড় জয় তুলে নিল। অন্য দিকে, পিছিয়ে পড়েও আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিল জার্মানি। আর ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল ছোট্ট দেশ কুরাসাও।
অপ্রতিরোধ্য জাপান, টিউনিশিয়াকে উড়িয়ে নকআউটের পথে
জাপান ৪-০ টিউনিশিয়া
এশিয়ার ফুটবলের উন্নতি যে আর কাকতালীয় নয়, তা আরও এক বার প্রমাণ করল জাপান। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র করার পর টিউনিশিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার করল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই পরিকল্পিত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে জাপান। ৪ মিনিটে দাইচি কামাডার গোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে উইডা ব্যবধান বাড়ান। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জাপান। ৬৯ মিনিটে ইটোর গোলে ৩-০ এবং পরে উইডার দ্বিতীয় গোল ম্যাচের ফল নিশ্চিত করে।
চার গোলের জয় পেলেও আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছে জাপান। তবে তাদের গতিময় ফুটবল ও নিখুঁত পাসিং দেখে ফুটবলবিশ্বের নজর কেড়েছে দলটি।
ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, নায়ক গোলরক্ষক রুম
কুরাসাও ০-০ ইকুয়েডর
বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট পেল কুরাসাও। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের নায়ক গোলরক্ষক এলয় রুম।
ইকুয়েডর পুরো ম্যাচে দাপট দেখালেও রুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে আটকে যায় তারা। ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৭টিরও বেশি শট নেয় ইকুয়েডর। তার মধ্যে ১৫টি ছিল গোলের লক্ষ্যে। কিন্তু প্রতিটি শটই আটকে দেন ৩৭ বছরের গোলরক্ষক।
৯০ মিনিটের ম্যাচে ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন রুম। এর আগে ১৯৭৮ সালে পেরুর র্যামোন কুইরোগা এক ম্যাচে ১৩টি সেভ করেছিলেন।
রুমের এই পারফরম্যান্স কুরাসাওকে শুধু পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্বমঞ্চে দেশের সম্মানও বাড়িয়েছে।
১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জার্মানি
জার্মানি ২-১ আইভরি কোস্ট
চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি অবশেষে নিজেদের পরিচিত রূপে ফিরল। ২০১৪ সালের পর পরের দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এ বার সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে নকআউটে পৌঁছে গেল জার্মানি।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল আইভরি কোস্টের পক্ষে। প্রথমার্ধে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। প্রথম ৬০ মিনিটে জার্মানিকে চাপে রেখেছিল তারা।
এর পর কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের একটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৬০ মিনিটে তিনটি পরিবর্তন করেন তিনি। মাঠে নামেন ডেনিজ উন্ডাভ, জেমি লিউইলিং ও নাদিম আমিরি।
বদলি নেমেই উন্ডাভ দুই গোল করে জার্মানিকে জয় এনে দেন। ৬৮ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর শেষ দিকে দ্বিতীয় গোল করে দলকে নকআউটে তুলে দেন তিনি।
কমলা ঝড়ে উড়ে গেল সুইডেন
নেদারল্যান্ডস ৫-১ সুইডেন
বিশ্বকাপে এ দিন দেখা গেল কমলা ঝড়। দ্রুত পাস, গতিময় আক্রমণ এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সুইডেনকে কার্যত উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস।
৫ মিনিটেই ব্রবির গোলে এগিয়ে যায় ডাচরা। ১৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনিই। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও সুইডেন লড়াই করার চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় নেদারল্যান্ডস। কডি গ্যাকপো ৪৭ ও ৫৪ মিনিটে পর পর দুই গোল করে ব্যবধান বাড়ান। ৮৯ মিনিটে সামারভিল পঞ্চম গোল করেন।
সুইডেনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অ্যান্থনি এলেঙ্গা। তবে নেদারল্যান্ডসের জয়ের অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক ভারব্রুগেন— তিনি আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।
বিশ্বকাপের এই ম্যাচগুলি আরও এক বার দেখিয়ে দিল— বড় নাম নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। জাপান ও কুরাসাওয়ের উত্থান যেমন নজর কাড়ছে, তেমনই জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসও নিজেদের শক্তির পরিচয় দিচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?