মাঝ-আকাশেই ধ্বংস হবে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র!!
পাকিস্তান ও চিন— দুই প্রতিবেশী দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (Defence Research and Development Organisation) সম্প্রতি একাধিক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পরীক্ষাগুলিতে শতভাগ সাফল্য মিলেছে, যা ভারতের আকাশ ও সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে নতুন ঢাল
ডিআরডিও এমন এক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছে, যা শত্রুপক্ষের ছোড়া ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলাতেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বর্তমানে এই ধরনের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের এই সাফল্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির মোকাবিলায় প্রস্তুতি
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল চিনের দীর্ঘ-পাল্লার রকেট বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা। People’s Liberation Army-র হাতে বিপুল সংখ্যক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অসামরিক স্থাপনাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
এস-৪০০-এর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে
ভারতের হাতে ইতিমধ্যেই রয়েছে রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক S-400 Triumph আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভারতীয় বায়ুসেনায় এটি ‘সুদর্শন চক্র’ নামেও পরিচিত। নতুন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভবিষ্যতে এস-৪০০-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে বলে প্রতিরক্ষা মহলের ধারণা।
এস-৪০০ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং যুদ্ধবিমান, ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশেই ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
সমুদ্রে শত্রুর রণতরী ধ্বংসের নতুন অস্ত্র
শুধু আকাশ প্রতিরক্ষাই নয়, ডিআরডিও একটি মাঝারি পাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রেরও সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই অস্ত্র যুদ্ধজাহাজ বা রণতরীকে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রহ্মসের আরও দ্রুত সংস্করণের পরিকল্পনা
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি BrahMos ক্ষেপণাস্ত্রকে ভবিষ্যতে হাইপারসনিক পর্যায়ে উন্নীত করার কাজও চলছে। হাইপারসনিক সংস্করণ শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তারও বেশি গতিতে উড়তে পারবে। এতে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ও আঘাত হানার ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের সাম্প্রতিক এই পরীক্ষাগুলি দেখিয়ে দিল, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা ও সমুদ্র প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পথে দ্রুত এগোচ্ছে দেশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?