এআই-এর ‘তৃষ্ণা’ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। লেখালিখি, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে ব্যবসা ও গবেষণা— সর্বত্র এর ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক বড় পরিবেশগত উদ্বেগ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সতর্ক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ-সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টারগুলির জল ব্যবহারের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের গৃহস্থালি জলের চাহিদার সমান হয়ে যেতে পারে।
এআই-এর জন্য এত জল লাগে কেন?
অনেকেই মনে করেন এআই শুধু সফটওয়্যার, তাই এর সঙ্গে জলের সম্পর্ক নেই। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। এআই মডেল চালাতে প্রয়োজন বিশাল ডেটা সেন্টার, যেখানে হাজার হাজার শক্তিশালী প্রসেসর ও সার্ভার দিনরাত কাজ করে। এই যন্ত্রগুলি বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে। অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করতে উন্নত কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর জল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নতুন কোনও সমস্যা নয়। বহু দশক ধরেই বৃহৎ কম্পিউটার ব্যবস্থাকে ঠান্ডা রাখতে জল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এআই-এর বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা সেই চাহিদাকে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুতের চাহিদাও উদ্বেগজনক
গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি দশকের শেষে এআই ডেটা সেন্টারগুলির বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় Pakistan, Bangladesh এবং Nigeria— এই তিন দেশের মোট বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার সমান।
আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এআই-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় শুধু প্রশিক্ষণের সময় নয়, বরং প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের ব্যবহারের সময়। জনপ্রিয় এআই পরিষেবাগুলি প্রতিদিন শতকোটি অনুরোধ বা ‘প্রম্পট’ প্রক্রিয়াকরণ করে, যার জন্য নিরন্তর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
ছবি ও ভিডিও আরও বেশি ‘খরুচে’
সব ধরনের এআই কাজের বিদ্যুৎ চাহিদা এক নয়। সাধারণ টেক্সট তৈরি বা প্রশ্নোত্তরের তুলনায় ছবি তৈরির ক্ষেত্রে অনেক বেশি কম্পিউটিং শক্তি লাগে। আর ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে সেই চাহিদা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে ভবিষ্যতে জেনারেটিভ এআই-এর ব্যবহার যত বাড়বে, পরিবেশগত চাপও তত বৃদ্ধি পাবে।
সমস্যার ভার কে বহন করছে?
গবেষকদের মতে, এআই-এর সুবিধা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও তার পরিবেশগত মূল্য সমানভাবে ভাগ হচ্ছে না। অনেক দেশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ফলে স্থানীয় জলসম্পদের উপর চাপ বাড়ছে। কোথাও খরাপ্রবণ এলাকাতেও বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহার করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ই-ওয়েস্ট বা বৈদ্যুতিন বর্জ্যের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-সংক্রান্ত প্রযুক্তি থেকে বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ টন বৈদ্যুতিন বর্জ্য তৈরি হতে পারে।
সমাধানের পথ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর অগ্রগতি থামানো বাস্তবসম্মত নয়। বরং প্রয়োজন আরও দক্ষ কুলিং প্রযুক্তি, নবীকরণযোগ্য শক্তির উন্নত ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক নীতিগত সমন্বয়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের গবেষকেরাও স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা এআই-এর বিরোধী নন। বরং তাঁদের উদ্দেশ্য হল এমন একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ— দু’টিই পাশাপাশি এগোতে পারে। কারণ, এআই নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ টেকসই না হলে তার সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?