নীল তিমিকেও হার মানানো পৃথিবীর বৃহত্তম জীব!!
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হিসেবে আমরা সাধারণত নীল তিমির নামই জানি। কিন্তু সবচেয়ে বড় জীবন্ত জীব যে নীল তিমি নয়, তা অনেকেরই অজানা। বিজ্ঞানীদের মতে, সেই সম্মান প্রাপ্য এক বিশালাকার ছত্রাকের, যা আমেরিকার ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি বনভূমির মাটির নীচে আজও জীবিত অবস্থায় বিস্তৃত হয়ে রয়েছে।
এই ছত্রাকের নাম আর্মিলারিয়া ওস্টোয়ে (Armillaria ostoyae), যা সাধারণভাবে ‘হানি মাশরুম’ নামেও পরিচিত। বাইরে থেকে দেখলে এটি একেবারে সাধারণ মাশরুমের মতোই। কিন্তু এর প্রকৃত বিস্তার লুকিয়ে রয়েছে মাটির গভীরে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই একক জীব প্রায় সাড়ে ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, যা প্রায় ১,৬০০-রও বেশি ফুটবল মাঠের সমান।
এই বিস্ময়কর আবিষ্কারের সূত্রপাত ১৯৮৮ সালে। ওরেগনের মালহিউর ন্যাশনাল ফরেস্টে অস্বাভাবিক হারে গাছ মারা যেতে শুরু করলে তদন্তে নামেন উদ্ভিদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেগ হুইপল। গাছের শিকড় পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি পরজীবী ছত্রাক গোটা বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ডিএনএ বিশ্লেষণে জানা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য মাশরুম আসলে একই জীবের অংশ।
বিজ্ঞানীদের মতে, মাটির উপরে যে মাশরুমগুলি দেখা যায়, সেগুলি এই জীবের মাত্র ক্ষুদ্র অংশ। আসল দেহটি রয়েছে মাটির নীচে, যেখানে সূক্ষ্ম সাদা তন্তুর জালের মতো গঠন তৈরি করেছে ছত্রাকটি। এই গঠনকে বলা হয় মাইসেলিয়াম। মাটির নীচে থাকা এই মাইসেলিয়ামই পুষ্টি সংগ্রহ করে এবং ধীরে ধীরে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এই জীবের বয়স নিয়েও রয়েছে বিস্ময়। গবেষকদের অনুমান, এর বয়স কমপক্ষে ২,০০০ থেকে ৮,৫০০ বছর। কিছু বিজ্ঞানীর মতে, এটি ১০ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো হতে পারে। অর্থাৎ, মানবসভ্যতার বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আগেও এই জীব পৃথিবীতে ছিল এবং এখনও বেঁচে আছে।
আর্মিলারিয়া গোত্রের ছত্রাক যে এত বিশাল আকার ধারণ করতে পারে, তা প্রথম স্পষ্ট হয় ১৯৯০-এর দশকে। পরবর্তী গবেষণাগুলি দেখায়, এই ধরনের ছত্রাকের কলোনিগুলি অনেক সময় পৃথক জীব নয়, বরং একটি বিশাল একক জীবের বিস্তার। তবে ওরেগনের এই নমুনাটি আকার ও বয়স— দু’দিক থেকেই নজিরবিহীন।
প্রতি বছর মাইসেলিয়াম কয়েক ফুট করে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ধীর কিন্তু অবিরাম বৃদ্ধির ফলেই হাজার হাজার বছরে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিচিত জীবন্ত সত্তা।
নীল তিমি আকারে বিশাল হলেও, ওজন বা দৈর্ঘ্যের সীমা রয়েছে। কিন্তু ওরেগনের এই ছত্রাক প্রমাণ করে, প্রকৃতির বিস্ময় অনেক সময় চোখের সামনে নয়, বরং মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকে। হাজার বছরের পুরোনো এই ‘জীবন্ত দৈত্য’ আজও নীরবে বেড়ে চলেছে, আর বিজ্ঞানীদের কাছে রয়ে গেছে এক অবিশ্বাস্য রহস্যের উৎস।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?