গরমে এক গ্লাস জামের শরবত!
bগ্রীষ্ম মানেই বাজারে রসালো কালো জামের দেখা। অনেকেই নুন-মরিচ মাখিয়ে এই ফল খেতে ভালোবাসেন। তবে শুধু ফল হিসেবেই নয়, জামের শরবতও হতে পারে গরমের দিনে দারুণ সতেজ এক পানীয়। তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরের নানা উপকারেও আসে এই শরবত।
কেন খাবেন জামের শরবত?
১. হজমশক্তি ভালো রাখে
জামে রয়েছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। শরবতে বিটনুন যোগ করলে অম্বল, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও অনেকটাই কমতে পারে।
২. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম। এতে থাকা ‘জাম্বোলিন’ নামক উপাদান শর্করার বিপাক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই পরিমিত পরিমাণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী হতে পারে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ জাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। মৌসুমি সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
৪. ত্বক ও চোখের যত্ন নেয়
জামে থাকা ভিটামিন এ ও সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বার্ধক্যের ছাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি উপকারী।
৫. গরমে শরীর রাখে সতেজ
অতিরিক্ত ঘাম ও ক্লান্তিতে শরীরের শক্তি কমে যায়। জামের শরবত শরীরকে দ্রুত সতেজ করে এবং জলশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
জামের শরবত তৈরির উপকরণ
- ১ কাপ পাকা কালো জাম (বীজ ছাড়ানো)
- ২ টেবিল চামচ চিনি বা মধু
- ½ চা চামচ বিটনুন
- ¼ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো
- ১ টেবিল চামচ লেবুর রস
- ৩-৪টি পুদিনা পাতা
- ২ গ্লাস ঠান্ডা জল
- প্রয়োজনমতো বরফ
তৈরির পদ্ধতি
১. ভালো করে ধুয়ে জামের বীজ আলাদা করে নিন।
২. ব্লেন্ডারে জাম, চিনি বা মধু, বিটনুন, গোলমরিচ, লেবুর রস, পুদিনা পাতা এবং সামান্য জল দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করুন।
৩. এরপর বাকি ঠান্ডা জল যোগ করে আরও একবার ব্লেন্ড করুন।
৪. মিশ্রণটি ছেঁকে নিন যাতে শরবত মসৃণ হয়।
৫. গ্লাসে বরফ দিয়ে শরবত ঢালুন। উপর থেকে পুদিনা পাতা ও লেবুর স্লাইস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
গরমের দুপুরে কিংবা বিকেলের ক্লান্তি কাটাতে এক গ্লাস ঠান্ডা জামের শরবত শুধু স্বাদই নয়, শরীর ও ত্বকের জন্যও হতে পারে দারুণ উপকারী।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?