ফের বাড়ল পেট্রল-ডিজ়েলের দাম!
দেশ জুড়ে আবারও বাড়ল পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম। গত ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া মূল্যবৃদ্ধির ধারা এখনও থামেনি। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে চার বার দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহণ খরচ বাড়ার আশঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সোমবার নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ১০২.১২ টাকায় পৌঁছেছে। এক ধাক্কায় ২.৬১ টাকা বেড়েছে দাম। ডিজ়েলের দামও বেড়ে হয়েছে ৯৫.২০ টাকা প্রতি লিটার।
কলকাতাতেও পরিস্থিতি খুব একটা আলাদা নয়। শহরে পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ টাকা প্রতি লিটার। ডিজ়েলের নতুন দাম ৯৯.৮২ টাকা। অর্থাৎ, রাজধানীর তুলনায় কলকাতায় এখনও জ্বালানির খরচ অনেকটাই বেশি।
এ ছাড়া দেশের অন্য বড় শহরগুলিতেও দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম এখন ১১১.২১ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ৯৭.৮৩ টাকা। চেন্নাইতে পেট্রল মিলছে ১০৭.৭৭ টাকায়, আর ডিজ়েলের দাম পৌঁছেছে ৯৯.৫৫ টাকায়।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ছে না, প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনেও। পরিবহণ খরচ বাড়লে বাজারে পণ্য পৌঁছনোর খরচও বাড়ে। ফলে দুধ, রুটি, শাকসবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিসের দামও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৫ মে প্রথম বড় ধাক্কায় লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল পেট্রলের দাম। তার পর ১৯ মে, ২৩ মে এবং আবার ২৫ মে দাম বৃদ্ধি করা হল। সব মিলিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে পেট্রলের দাম ৭ টাকারও বেশি বেড়ে গেল।
এই পরিস্থিতির পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকেই দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। সেই রুটে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।
ভারত যেহেতু মূলত বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব সরাসরি দেশের জ্বালানির দামে পড়ছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলি জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন তারা লোকসান সত্ত্বেও দেশে জ্বালানির দাম স্থির রেখেছিল। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে, শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো ছাড়া আর উপায় ছিল না।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষায় অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই— এই মূল্যবৃদ্ধি আর কত দিন চলবে?
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা