পেট্রল-ডিজেল সস্তা হবে কি?
নরেন্দ্র মোদী সরকার পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর লিটার প্রতি অন্তঃশুল্ক কমিয়ে মাত্র ১০ টাকা করেছে। এর অর্থ, পেট্রলের শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়াল মাত্র ৩ টাকায়, আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে তা শূন্যে নেমে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পর অনেকেই প্রশ্ন করছেন—দামে কি আসলেই প্রতিফলন ঘটবে, সাধারণ মানুষ কি লাভবান হবে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অন্তঃশুল্ক হ্রাস মূলত দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর (ওএমসি) ক্ষতি কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় সংস্থাগুলি চাপের মুখে পড়ছিল। গত বছরের তুলনায় তেলের দাম বারেল প্রতি অনেকটাই বেড়ে গেছে। যদিও ভারতের বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সংস্থাগুলি তখনও ক্ষতির মুখে পড়ছিল। এই ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে এবং কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার অন্তঃশুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আপাতত ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে এসেছে। তবে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে উল্লেখযোগ্য ছাড় আসবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে দেশের তেল আমদানির পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে ভারতের অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকের বেশি আসত সৌদি আরব ও ইউএই থেকে। তবে ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাত হরমুজ় প্রণালীকে অস্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ করেছিল। কিছু জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক। ইরান কিছু দেশের জাহাজকে প্রণালী পারাপারের অনুমতি দিয়েছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।
এছাড়া, মোদী সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে যে দেশে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে থাকা অশোধিত তেল দিয়ে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া, গ্যাসবাহী জাহাজ আমেরিকা ও রাশিয়া থেকে খুব শীঘ্রই ভারতের বন্দরগুলোতে পৌঁছাবে, যা এক মাসেরও বেশি সময়ের জন্য সঙ্কট এড়াতে সাহায্য করবে।
তাহলে কি পেট্রল-ডিজেলের দাম কমবে? অন্তঃশুল্ক হ্রাস মূলত তেল সংস্থাগুলোর ক্ষতি কমানোর জন্য, তাই সরাসরি দামের উপর প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি হলে ভবিষ্যতে দেশের বাজারে সেই প্রভাব সীমিত করার ক্ষেত্রে সরকারের এই পদক্ষেপ সহায়ক হতে পারে।
সংক্ষেপে, অন্তঃশুল্ক হ্রাস সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো দেশের তেল সংস্থাগুলোর আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা করা। সাধারণ ভোক্তার দামের সুবিধা থাকলেও তা সীমিত হতে পারে, কিন্তু সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের মূল লক্ষ্য।