“মাটির তাল থেকে সোনা”: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে নন্দিতা রায়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে নন্দিতা রায়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ! পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে তাঁর দীর্ঘদিনের সহ-পরিচালক নন্দিতা রায় লিখলেন এক আবেগভরা চিঠি, যেখানে উঠে এল এক তরুণের পরিণত শিল্পীতে রূপান্তরের গল্প। শিবপ্রসাদের…

May 20, 2026
1 min read

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে নন্দিতা রায়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ!

পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে তাঁর দীর্ঘদিনের সহ-পরিচালক নন্দিতা রায় লিখলেন এক আবেগভরা চিঠি, যেখানে উঠে এল এক তরুণের পরিণত শিল্পীতে রূপান্তরের গল্প। শিবপ্রসাদের ৫২তম জন্মদিনে প্রকাশিত এই লেখায় নন্দিতা যেন ফিরে গেলেন তাঁদের প্রথম পরিচয়ের দিনে—যখন শিবু ছিলেন মাত্র ২৪ বছরের এক উদ্যমী, স্বপ্নভরা তরুণ।

নন্দিতা রায়ের মতে, সেই সময়ের শিবপ্রসাদ ছিলেন প্রচণ্ড প্রতিভাবান, কিন্তু কিছুটা দিশাহীনও। “ওর মধ্যে তখনই প্যাশন ছিল, ছিল অসাধারণ বৈচিত্র, কিন্তু কীভাবে এগোবে সেটা নিয়ে অনেক দ্বিধা ছিল,” লিখেছেন তিনি। সেই তরুণই আজ বাংলা চলচ্চিত্র জগতে একজন সফল পরিচালক, অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাঁর লেখায় স্পষ্ট উঠে এসেছে শিবপ্রসাদের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসা। নন্দিতা লিখেছেন, “আমি ওকে একটা মাটির তাল হিসেবে পেয়েছিলাম, কিন্তু জানতাম—এই মাটির তাল থেকেই একদিন সোনা তৈরি করা যাবে।” তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে শিবপ্রসাদ শুধু পরিণতই হননি, বরং নিজের ভেতরের অস্থিরতাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, শিবপ্রসাদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর শান্ত স্বভাব ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা। সেটে কখনও অশান্তি না হওয়া, ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলানো এবং নিজের কাজ সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া—এই সবই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে বলে মনে করেন নন্দিতা। তবে রাগও তাঁর চরিত্রের অংশ, আর সেই রাগের মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় হয়ে ওঠেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

শিবপ্রসাদের ব্যক্তিগত দিকও উঠে এসেছে লেখায়। নন্দিতা জানান, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় তাঁর মা। মায়ের সামনে তিনি যেন একেবারে ছোট্ট ছেলের মতো হয়ে যান। কাজের বাইরে তিনি খুব বেশি আড়ম্বর পছন্দ করেন না—সাধারণ খাবার, সরল জীবনই তাঁর পছন্দ।

তবে কাজই তাঁর জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। “ও কাজ ছাড়া থাকতে পারে না,” লিখেছেন নন্দিতা। তাঁর মতে, শিবপ্রসাদের কাছে কাজই আসল উদযাপন, আর সেই কারণেই ছুটি বা ঘুরতে যাওয়ার চেয়ে সেটেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ।

শেষে নন্দিতা লেখেন, অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক—এই তিন ভূমিকাতেই শিবপ্রসাদ অনন্য। তবে তাঁর মতে, প্রযোজক হিসেবে তাঁর আরও উন্নতির সুযোগ আছে। তবুও সবকিছুর পরেও তিনি চান, শিবপ্রসাদ যেন নিজের স্বাভাবিকতা ও সৃজনশীলতা কখনও না হারান।

এক কথায়, নন্দিতার চোখে শিবপ্রসাদ শুধুই একজন সহকর্মী নন—তিনি এক “বিরল মানুষ”, যাঁকে খুব কাছ থেকে দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *