চিনের ‘থ্রি গর্জেস’!
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংৎজির উপর নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিমি কিছু বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাঁধটির কাঠামোয় ধীরে ধীরে বিকৃতি দেখা দিচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, কোনও বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়তে পারে চিনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর।
১৯৯৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে প্রায় ১৭ বছর সময় লেগেছিল। প্রায় ৩,৭০০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি হওয়া বাঁধটি শুধু জল নিয়ন্ত্রণই নয়, বিপুল পরিমাণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। চিনের দাবি, এই প্রকল্প দেশের উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে উদ্বেগও কম নয়। ২০২০ সালে উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে কিছু মার্কিন ইঞ্জিনিয়ার দাবি করেছিলেন, অতিরিক্ত জলচাপের কারণে বাঁধের একটি অংশ সামান্য বেঁকে যেতে পারে। যদিও চিন সরকার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে। বেজিংয়ের বক্তব্য, বাঁধটি নিরাপদ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, যদি কখনও ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধ ভেঙে যায়, তবে ইয়াংৎজি নদীর বিপুল জলরাশি ভয়ঙ্কর গতিতে নীচের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। তাঁদের মতে, প্রথম ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাঁধ সংলগ্ন ইলিং জেলা। পরে জল পৌঁছে যেতে পারে ইউহান ও সাংহাইয়ের মতো বড় শহরেও। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
তবে এই ধরনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির হিসাবকে অনেক বিশেষজ্ঞই ‘চরমতম কল্পনা’ বলেও মনে করছেন। কারণ, আধুনিক বাঁধ নির্মাণে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। পাশাপাশি, এমন প্রকল্পে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাপ পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে নাসার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এত বিপুল জলরাশি আটকে রাখার ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণনগতিতে অতি সামান্য পরিবর্তন এসেছে। যদিও সেই পরিবর্তন এতটাই ক্ষুদ্র যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার কোনও প্রভাব পড়ে না।
এই বিতর্কের মাঝেই উঠে এসেছে লিবিয়ার দেরনা বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ। ২০২৩ সালে প্রবল বৃষ্টির পরে সেখানে পরপর দু’টি বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই ঘটনার উদাহরণ টেনে অনেকেই বলছেন, বৃহৎ বাঁধ প্রকল্পে সামান্য ত্রুটিও ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তবে ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধ এখনই ভেঙে পড়ার মুখে— এমন কোনও সরকারি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে আতঙ্কের বদলে বিষয়টিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের উপর ভরসা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা