চিনা নির্ভরতা কাটাতে রাশিয়ার হাত!
চিনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে এবার রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে চুক্তির পথে এগোচ্ছে ভারত। বিরল খনিজ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ নিয়ে এই সম্ভাব্য সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সমঝোতার প্রাথমিক খসড়া ইতিমধ্যেই মস্কোয় পাঠানো হয়েছে এবং দুই দেশ এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার দিকে এগোচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়—এবার ভারতের ফোকাস খনিজ সম্পদের উপর। লিথিয়াম, নিওডিমিয়াম, কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সেমিকন্ডাক্টর এবং আধুনিক শিল্প ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এই খনিজের জোগানেই দীর্ঘদিন ধরে বড় ভূমিকা নিয়ে এসেছে চিন, যা একাধিক দেশের কাছে একধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিকল্প উৎস তৈরি করতে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে শুধু খনিজ অনুসন্ধান নয়, বরং যৌথভাবে উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রযুক্তি ভাগাভাগির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার বিশাল ভূ-সম্পদ এবং খনি প্রযুক্তি ভারতের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে।
সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে লিথিয়াম। পাশাপাশি এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ টানার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রক বা রুশ প্রশাসন এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারত বর্তমানে এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে যেখানে একাধিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলা হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগে অংশগ্রহণ, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এই দ্বিমুখী নীতি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও সরবরাহ নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চিনের উপর নির্ভরতা কমানো ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার রফতানি সীমাবদ্ধতার কারণে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও ইভি শিল্পে প্রভাব পড়েছে। তাই বিকল্প উৎস তৈরি করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
ভারতের অভ্যন্তরেও বিরল খনিজের ভাণ্ডার থাকলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন সীমিত। ফলে বিদেশি সহযোগিতা ছাড়া দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিকে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
সব মিলিয়ে, ভারত এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রযুক্তি, কূটনীতি এবং অর্থনীতি—তিন ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে এই নতুন সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব সেই কৌশলগত পথেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা