‘বাংলার মেয়ে’ ইমেজে ভাটা!
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করে দিল— যে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্তির অন্যতম স্তম্ভ ছিল, সেখানে এবার বড় ফাটল ধরেছে। Mamata Banerjee-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘বাংলার মেয়ে’ ইমেজ, যা ২০২১ সালে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছিল, তা আর আগের মতো কাজ করল না।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৫০ শতাংশ মহিলা ভোট নিজেদের দিকে টানতে পেরেছিল। সেই সময় এই ভোটব্যাঙ্কই ছিল দলের জয়ের প্রধান চাবিকাঠি। পরবর্তীতে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো প্রকল্প চালু করে সেই সমর্থন আরও মজবুত করার চেষ্টা হয়। মাসিক আর্থিক সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, এবং তা রাজনৈতিকভাবে বড় সম্পদে পরিণত হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৬-এ ছবিটা বদলে গেল। এবার মহিলা ভোটের একটি বড় অংশ ঝুঁকল Bharatiya Janata Party-র দিকে। শুধু পুরুষ ভোট নয়, মহিলা ভোটেও এই সরে আসা বিজেপির জয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রথমত, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিশ্রুতি। বিজেপি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর মতো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেয়, যেখানে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার মতো ঘোষণাও ছিল। অর্থনৈতিক সুবিধার এই তুলনামূলক প্রস্তাব অনেক ভোটারকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, নারীসুরক্ষা ইস্যু। আরজি কর হাসপাতালের বহুল আলোচিত ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে যে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছিল, তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়েছে বলেই মত অনেকের। Narendra Modi এবং Amit Shah বারবার এই ইস্যু তুলে ধরে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন এবং নিরাপত্তার প্রশ্নকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
তৃতীয়ত, মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। দীর্ঘদিন এক দলের উপর ভরসা রাখার পর ভোটারদের একাংশের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছাও কাজ করেছে। উপনির্বাচনে তৃণমূল জিতলেও, বড় নির্বাচনে সেই সমর্থন ধরে রাখা যায়নি— যা প্রমাণ করে যে ক্ষোভ বা অসন্তোষ জমছিল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভোটদানে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত বেশি— শতাংশের হিসেবে পুরুষদের থেকেও বেশি। অর্থাৎ, এই ভোটব্যাঙ্ক শুধু বড়ই নয়, অত্যন্ত সক্রিয়ও। আর সেই সক্রিয় অংশের বড় অংশের অবস্থান বদলানোই ফলাফলে নাটকীয় প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো প্রকল্প একসময় যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছিল, তা এবার আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি। তার জায়গায় প্রতিশ্রুতি, নিরাপত্তা এবং পরিবর্তনের বার্তা মিলিয়ে নতুন এক ভোট-সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
এই ফলাফল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— শুধু কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়, ভোটারদের প্রত্যাশা এখন আরও বিস্তৃত। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপত্তা, সম্মান এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা— সব কিছু মিলিয়েই গড়ে উঠছে তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা