‘মমতার রাজনৈতিক সন্ন্যাস’!
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি ছিল ভবানীপুর। আর সেই লড়াইয়ের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য— “মমতার রাজনৈতিক সন্ন্যাস হয়ে গেল।”
জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়ে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বর থেকে বেরিয়ে আসেন শুভেন্দু। বাইরে তখন উৎসবের আবহ— সমর্থকদের উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ, আর জয়ধ্বনি। সেই আবহেই শুভেন্দু বলেন, “আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরের হিন্দু, জৈন ও শিখ সমাজের মানুষ। তাঁদের প্রতি আমার প্রণাম।”
এর পরেই তাঁর আরও জোরালো রাজনৈতিক বার্তা— “এ জয় হিন্দুত্বের জয়, বাংলার জয়, এবং মোদীজির জয়।” নিজের এই জয় তিনি উৎসর্গ করেন পশ্চিমবঙ্গে ‘হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দেওয়া’ বিজেপির কর্মীদের উদ্দেশে। পাশাপাশি, রাজস্থান থেকে প্রচারে আসা বিজেপি বিধায়কদের ধন্যবাদ জানান এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ভবানীপুরে এই নির্বাচনে শুভেন্দুর জয় ছিল স্পষ্ট ব্যবধানে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,১১২টি। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫,১০৫ ভোট— যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। ভবানীপুরের পাশাপাশি নিজের পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও জয় পেয়েছেন তিনি। যদিও সেখানে ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম— ১০ হাজারের নিচে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে শুভেন্দুর সরাসরি মন্তব্য, সংখ্যালঘু ভোট না পাওয়ার কারণেই নন্দীগ্রামে তাঁর জয়ের মার্জিন কমেছে।
এই ফলাফলের সঙ্গে ঐতিহাসিক তুলনাও টানা হচ্ছে। ১৯৬৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অজয় মুখোপাধ্যায় যেমন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনকে পরাজিত করেছিলেন, তেমনই এবার শুভেন্দু অধিকারীও এক প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই ফল শুধু একটি আসনের জয়-পরাজয়ের গল্প নয়— এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা