বিজেপি যা বলে, কমিশন কি সেটাই মানছে?
স্ট্রংরুমে সিসিটিভি বন্ধ হওয়া এবং ভোটগণনা ঘিরে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলে ধরল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। ওই দলে ছিলেন কলকাতা বন্দরের প্রার্থী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং কাউন্সিলর অসীম বসু।
সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সামনে তৃণমূলের তিন নেতা কার্যত কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্ট্রংরুমে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। শশী পাঁজার বক্তব্য, “হুগলির হরিপাল, জলপাইগুড়ি, রামপুরহাট থেকে ঘাটাল—একাধিক জায়গায় একই ঘটনা ঘটেছে। প্রযুক্তির যুগে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকা উচিত স্ট্রংরুমে।”
এই অভিযোগের সুর আরও তীব্র করেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, “আসলে বিজেপি আজ যা বলে, সেটাই কমিশনকে আগামীকাল বলতে হয়।” তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং কোনও রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থাকতে হবে।
স্ট্রংরুম বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তৃণমূল ও বিজেপির পাল্টা বিক্ষোভের পর। সেখানে পোস্টাল ব্যালট গণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে শাসক দল। তৃণমূলের অভিযোগ, কিছু জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলিকে না জানিয়েই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
শশী পাঁজা বলেন, “আমরা আগেই ইমেল করেছিলাম মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সিইওর কাছে যেতে হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, স্ট্রংরুমে যেখানে ক্যামেরা বন্ধ ছিল, তার পূর্ণ রেকর্ডিং কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে, নাহলে স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ফিরহাদ হাকিম এদিন আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট সাধারণত আলাদা জায়গায় রাখা হয়, সেখানে একই জায়গায় স্ক্রুটিনি করা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাঁর কথায়, “আমরা সংঘাতে যেতে চাই না, কিন্তু সন্দেহ তৈরি হলে প্রশ্ন তোলা আমাদের দায়িত্ব।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যদি কমিশন বলে কিছু জায়গায় ক্যামেরা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল, তাহলে সেটি যথেষ্ট গুরুতর বিষয়। ভোটগ্রহণ ও গণনার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অসঙ্গতি মেনে নেওয়া যায় না বলেই তাদের মত।
অন্যদিকে কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত কারণে কিছুক্ষণের জন্য ক্যামেরায় সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনও করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরে বিষয়টি এখন আরও বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?