হায়দরাবাদের দুর্দান্ত জয়ে টানা ধাক্কা হার্দিকদের!
আইপিএলে আবারও বড় স্কোর করেও ম্যাচ জিততে পারল না মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ঘরের মাঠে ২৪৩ রান তুলেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৬ উইকেটে হেরে গেল হার্দিক পাণ্ড্যের দল। এই ম্যাচে রায়ান রিকলটনের ১২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসও শেষ পর্যন্ত দলকে বাঁচাতে পারল না।
ম্যাচের শুরুতে মুম্বইয়ের ব্যাটিং ছিল একেবারে আগ্রাসী মেজাজে। ওপেনিংয়ে উইল জ্যাকস ও রিকলটন ঝড় তোলেন। জ্যাকস মাত্র ২২ বলে ৪৬ রান করে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন, কিন্তু অন্য প্রান্তে রিকলটন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তিনি একাই হায়দরাবাদের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ১২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা। আইপিএলে মুম্বইয়ের হয়ে এটি এখন পর্যন্ত দ্রুততম শতরানগুলোর একটি।
তবে তার পাশে দাঁড়াতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব (৫) কিংবা নমন ধীর (২২)। অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য কিছুটা লড়াই করেন, ১৫ বলে ৩১ রান করে দলকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে দেন।
২৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে হায়দরাবাদ। ওপেনিং জুটি অভিষেক শর্মা ও ট্র্যাভিস হেড মাত্র ৮.৪ ওভারে ১২৯ রান তুলে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। অভিষেক করেন ২৪ বলে ৪৫ রান, আর হেড খেলেন আরও ভয়ংকর ইনিংস—৩০ বলে ৭৬।
দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও হায়দরাবাদের গতি কমেনি। হেনরিখ ক্লাসেন আবারও ম্যাচ ফিনিশারের ভূমিকা নেন। তিনি ৩০ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ দিকে সলিল অরোরার ১০ বলে ৩০ রানের ঝড় হায়দরাবাদকে সহজ জয় এনে দেয়।
মুম্বইয়ের বোলিংয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা আবারও বুমরাহ ও অভিজ্ঞ বোলারদের ব্যর্থতা। জসপ্রীত বুমরাহ ৪ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। সূর্যকুমার যাদবের অফ ফর্মও দলে প্রভাব ফেলছে। উইল জ্যাকস, ট্রেন্ট বোল্ট, হার্দিক—কেউই ধারাবাহিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারেননি।
হার্দিক পাণ্ড্য ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, দলের বোলিং ইউনিট এখনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারানোই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই হারের ফলে মুম্বইয়ের প্লে-অফের পথ আরও কঠিন হয়ে গেল। অন্যদিকে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে হায়দরাবাদ টানা পঞ্চম জয় তুলে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, মুম্বইয়ের জন্য এটি শুধু হার নয়—এটি একটি সতর্কবার্তা, যেখানে ব্যাটিংয়ের ঝলক থাকলেও বোলিংয়ের দুর্বলতা ম্যাচ হাতছাড়া করে দিচ্ছে বারবার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?