জ্বালানি সংকটে চিন্তা বাড়ছে পাকিস্তানে, ভারতের তুলনায় পিছিয়ে থাকার আক্ষেপ মন্ত্রীর মুখে

জ্বালানি সংকটে চিন্তা বাড়ছে পাকিস্তানে! পশ্চিম এশিয়ায় ইরান–মার্কিন উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই উদ্বেগই এবার প্রকাশ্যে আনলেন দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পরভেজ় মালিক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি…

April 29, 2026
1 min read

জ্বালানি সংকটে চিন্তা বাড়ছে পাকিস্তানে!

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান–মার্কিন উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই উদ্বেগই এবার প্রকাশ্যে আনলেন দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পরভেজ় মালিক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জ্বালানি মজুত অত্যন্ত সীমিত এবং তা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মালিক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ইরান–আমেরিকা সংঘাতের কোনও স্পষ্ট সমাধান এখনও দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর দেশের উপর।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, পাকিস্তানের হাতে বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। শুধু তাই নয়, এক দিনের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেট্রলও মজুত নেই বলে জানান তিনি। অর্থাৎ, সামান্য কোনও সরবরাহ ব্যাহত হলেই বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে দেশ।

এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ভারত নই যে এক ইশারায় ৬০-৭০ দিনের তেলের মজুত পেয়ে যাব।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, জ্বালানি সংরক্ষণে ভারতের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পাকিস্তান—এ কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে ইসলামাবাদ।

মালিক আরও জানান, পাকিস্তানের কোনও কৌশলগত তেল ভান্ডার নেই। দেশটি মূলত বাণিজ্যিক মজুতের উপর নির্ভর করে চলে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩০ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা কিছুটা হলেও বাড়ানো সম্ভব বলে আশা সরকারের।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে দুবাইয়ের ক্রুড অয়েলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় শুধু ভর্তুকি দিয়ে সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।

তবে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে সরকার চেষ্টা করছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ—এ কথাও উল্লেখ করেন মালিক।

একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি। তেল শোধনাগারগুলিকে আধুনিকীকরণ, মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার সংস্কার এবং কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনার উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, পরোক্ষ করের বদলে ব্যবহারভিত্তিক কর ব্যবস্থা চালু করা হলে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ভূমিকা নেওয়ার আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জ্বালানি মজুত শক্তিশালী করাই উচিত ইসলামাবাদের। না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে দেশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *