ভোটের আবহে থমকে গানের মঞ্চ, দুশ্চিন্তায় শিল্পী-মহল

দুশ্চিন্তায় শিল্পী-মহল! ভোট মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ, প্রচারের কোলাহল আর ব্যস্ততা—এই আবহে যেন খানিকটা স্তব্ধ হয়ে গেছে বাঙালির প্রিয় গানের জলসা। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষকে ঘিরে যেভাবে শহর থেকে মফস্‌সল জুড়ে…

April 22, 2026
1 min read

দুশ্চিন্তায় শিল্পী-মহল!

ভোট মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ, প্রচারের কোলাহল আর ব্যস্ততা—এই আবহে যেন খানিকটা স্তব্ধ হয়ে গেছে বাঙালির প্রিয় গানের জলসা। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষকে ঘিরে যেভাবে শহর থেকে মফস্‌সল জুড়ে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, এ বার সেই চেনা ছবিতে স্পষ্ট ভাটা। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে, কারণ এই অনুষ্ঠানগুলির উপরেই অনেকের রোজগার নির্ভর করে।

সঙ্গীতশিল্পী Monomoy Bhattacharya জানালেন, সাধারণত এপ্রিল-মে মাস তাঁর জন্য ভীষণ ব্যস্ত সময়। নববর্ষ, কবিপক্ষ, নজরুলজয়ন্তী—সব মিলিয়ে টানা অনুষ্ঠান থাকে। কিন্তু এ বছর চিত্রটা একেবারেই আলাদা। বেশ কিছু অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তারা পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় পিছিয়ে গিয়েছেন। এতে শুধু শিল্পীর নয়, তাঁর সঙ্গে যুক্ত সংগীতশিল্পীদেরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে—এই দিকটাই তাঁকে বেশি ভাবাচ্ছে।

অন্যদিকে, Lopamudra Mitra তুলনামূলক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই পরিস্থিতিকে দেখছেন। তাঁর মতে, ভোটের সময় শো কমে যাওয়া নতুন কিছু নয়। তবুও তিনি যে কয়েকটি অনুষ্ঠান করছেন, তা নিয়েই সন্তুষ্ট। নববর্ষের দিন কলামন্দিরে তাঁর অনুষ্ঠান দর্শকদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্যান্ড সঙ্গীতের জগতে পরিচিত মুখ Surojit Chatterjee-র অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তাঁর কথায়, বহু অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ভোটের কারণে। এখন সবাই প্রচারে ব্যস্ত, ফলে গানের অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী—ভোট মিটলেই আবার অনুষ্ঠান শুরু হবে, পুরনো ছন্দে ফিরবে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।

আরও এক জনপ্রিয় শিল্পী Somlata Acharyya Chowdhury তুলনামূলকভাবে এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন। যেহেতু তিনি খুব বেছে অনুষ্ঠান করেন, তাই প্রভাব তেমন পড়েনি। তাঁর মতে, ভোটের সময় মানুষ যেমন ব্যস্ত থাকেন, তেমনই বড় জমায়েতের আয়োজনও কঠিন হয়ে পড়ে—এটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞ শিল্পী Silajit Majumder বিষয়টিকে বেশ বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তাঁর মতে, ভোটের সময়ে এমনটা হবেই। বরং তিনি এটাকে মেনে নিয়েই নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, এই সময়টা একটু শান্ত থাকার, চারপাশের পরিস্থিতি বোঝার।

সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে গানের অনুষ্ঠান কমে যাওয়াটা যেন এক অনিবার্য বাস্তবতা। তবে শিল্পীদের কথাতেই স্পষ্ট—এই বিরতি সাময়িক। ভোট মিটলেই আবার মঞ্চে ফিরবে সুর, তাল আর দর্শকের উচ্ছ্বাস।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *