গঙ্গায় মিশল আশা ভোসলে-র স্মৃতি!
১২ এপ্রিল, মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে। তাঁর মৃত্যু শুধু সংগীত জগতেই নয়, পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। সময় গড়িয়েছে কয়েক দিন, কিন্তু সেই শোক এখনও তাজা—বিশেষ করে তাঁর নাতনি জ়নাইয়ের কাছে।
ঠাকুরমার সঙ্গে জ়নাইয়ের সম্পর্কটা ছিল একটু অন্যরকম। শুধু পরিবারের সদস্য নয়, তিনি ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, সঙ্গী, আশ্রয়। তাই মৃত্যুর পর থেকেই বার বার সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রকাশ্যে ঠাকুরমার জন্য নিজের আবেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে জ়নাইকে।
অবশেষে এল সেই কঠিন দিন—শেষ বিদায়ের মুহূর্ত। পরিবারের সদস্যরা মুম্বই ছেড়ে পাড়ি দেন বারাণসী-তে। হিন্দু রীতিনীতি মেনে গঙ্গার তীরে সম্পন্ন হয় অস্থি বিসর্জনের সব আচার।
প্রথমে প্রয়োজনীয় পুজো ও বিধি মেনে অনুষ্ঠান করেন আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে। তারপর সেই দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন জ়নাই। গঙ্গার জলে ঠাকুরমার অস্থি বিসর্জনের সময় আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। উপস্থিত সকলের কাছেই সেই মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
এর আগেই জ়নাই তাঁর অনুভূতি জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি যেন জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হারিয়েছেন। তাঁর কথায়, ঠাকুরমাই ছিলেন তাঁর “সব দুষ্টুমির সঙ্গী” এবং “সেরা বন্ধু”। সকালে ঘুম থেকে উঠে যাঁকে জড়িয়ে ধরা, একসঙ্গে চা খাওয়া, কিংবা বাড়ি ফিরে যার অপেক্ষা পাওয়া—সব কিছুই এখন অতীত।
মুম্বইয়ের লোয়ার পরেলের বাড়িতেই জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়েছিলেন আশা ভোসলে। শহরের আরও কয়েকটি জায়গায় তাঁর বাড়ি ছিল, পাশাপাশি পুণেতেও ছিল একটি বাসস্থান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি যে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন, তা এখন তাঁর ছেলে ও নাতনির কাছে উত্তরাধিকার হিসেবে রইল।
তবে সম্পত্তি বা ঐশ্বর্য নয়—আশা ভোসলের আসল উত্তরাধিকার তাঁর গান, তাঁর কণ্ঠ, আর অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতিই আজ বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর প্রিয়জনেরা, বিশেষ করে জ়নাই, যিনি জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে এখনও সেই শূন্যতার সঙ্গে লড়াই করছেন।
এই বিদায় তাই শুধু এক মহান শিল্পীর নয়, এক গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও—যার প্রতিধ্বনি হয়তো অনেক দিন ধরে শোনা যাবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?