তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে আয়কর হানা!
বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির একের পর এক তল্লাশি অভিযান ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক ঠিকানায় আয়কর দফতর এবং ইডির যৌথ তৎপরতায় কার্যত সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির দাবি—তাদের অভিযান সম্পূর্ণভাবে বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও জমি দুর্নীতির তদন্তের অংশ।
আয়কর দফতরের তালিকায় ছিল কলকাতার রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক ও তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি, তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়, পার্টি অফিস এবং শ্বশুরবাড়ির ফ্ল্যাট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে আধিকারিকেরা নথিপত্র খতিয়ে দেখেন বলে জানা যায়। একই দিনে কালীঘাটের তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও চলে তল্লাশি, যাঁকে এলাকায় দলের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তালিকায় আরও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যবসায়ী ও ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থীর প্রস্তাবক মিরাজ শাহ। এলগিন রোডের তাঁর বাড়িতেও আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। উল্লেখযোগ্যভাবে, মমতা মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে যাঁদের প্রস্তাবক করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন মিরাজ। ফলে তাঁর বাড়িতে অভিযান রাজনৈতিকভাবে আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
এছাড়াও বড়বাজার এবং হাওড়ার দুইটি ঠিকানায় আয়কর অভিযান হয় বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ইডির তরফে একটি নির্মাণ সংস্থার কর্ণধারের বাড়ি ও দফতর মিলিয়ে চারটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়, যার মধ্যে টালিগঞ্জ ও সল্টলেকের ঠিকানাও রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের সূত্র ধরেই এই অভিযান শুরু হয়েছে।
দেবাশিস কুমারের বাড়িতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। পরে তিনি জানান, আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন এবং সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেবাশিস দাবি করেন, এই ঘটনার ফলে তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ে জনসমর্থন আরও বাড়বে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোটের আগে বিরোধী দলকে সুবিধা দিতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রার্থীদের প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে, তবে দল ভয় পাবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়ছে। ভোটের আগে একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী তীব্র বাকযুদ্ধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?