মাতৃত্ব নিয়ে আলিয়াকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শেখালেন সদ্গুরু!
মেয়ে জন্মানোর পর থেকেই জীবন যেন আমূল বদলে গিয়েছে আলিয়া ভাট-এর। ছোট্ট রাহা কাপুর-কে ঘিরে তাঁর ভাবনা, উদ্বেগ— সবই এখন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। ভালো মা হওয়ার দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি প্রায়ই চিন্তিত থাকেন। আর সেই কারণেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিভাবকত্ব নিয়ে পরামর্শ চান আধ্যাত্মিক গুরু সদ্গুরু-র কাছে।
আলিয়ার এই উদ্বেগের জবাবে সদ্গুরু একেবারে অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, ভয় বা উৎকণ্ঠা নিয়ে কখনও সন্তানের সঠিক লালন-পালন করা সম্ভব নয়। বরং তিনি আলিয়াকে পরামর্শ দেন, মেয়ে রাহাকে শুধু শেখানোর চেষ্টা না করে, বরং তাঁর থেকেই শেখার চেষ্টা করতে।
সদ্গুরুর মতে, শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে বাঁচতে জানে। তারা বর্তমান মুহূর্তকে পুরোপুরি উপভোগ করে— যা অনেক বড়দের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই রাহার মধ্যেই জীবনের সহজ আনন্দ খুঁজে পেতে পারেন আলিয়া, এমনটাই ইঙ্গিত দেন তিনি।
আলোচনার এক পর্যায়ে আলিয়ার দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়েও কথা ওঠে। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা ঘুমোন। এই উত্তরে খানিক বিস্ময় প্রকাশ করেন সদ্গুরু। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন— “দিনে ৯ ঘণ্টা ঘুমোলে, জীবন উপভোগ করেন কখন?”
সদ্গুরুর মতে, বিশ্রামের জন্য চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ঘুমের সময় মানুষ আবেগ বা সচেতনভাবে জীবনকে অনুভব করতে পারে না। তাই জীবনের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ককে গভীরভাবে উপভোগ করতে হলে জেগে থাকা সময়টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ঘুম কমিয়ে সেই সময়টা যদি সন্তানের সঙ্গে কাটানো যায়, তবে সম্পর্ক আরও গভীর ও অর্থবহ হয়ে উঠবে। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোই একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ও আনন্দের উৎস হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আলিয়ার উদ্বেগের জবাবে সদ্গুরু যে বার্তা দিলেন, তা শুধু তাঁর জন্য নয়— প্রতিটি অভিভাবকের জন্যই প্রাসঙ্গিক। সন্তানকে নিখুঁত করে তোলার চেয়ে, তাদের সঙ্গে থেকে শেখা এবং মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করাই আসল— এই সহজ অথচ গভীর দর্শনই তুলে ধরলেন তিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?