কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন সইফ-সোহার বোন সাবা
মাত্র ২৭ বছর বয়সে ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছিল সাবা আলি খানের। কোনও আগাম উপসর্গ ছাড়াই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে অস্ত্রোপচারও করাতে হয় সইফ আলি খান ও সোহা আলি খানের বোনকে। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন সাবা।
পডকাস্টের ওই পর্বে চিকিৎসক মাজ়দা তুরেলের সঙ্গে মস্তিষ্কের টিউমার ও সুস্থ হয়ে ওঠার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সাবা জানান, প্রথম দিকে তাঁর মনে হয়েছিল, পেটের কোনও সমস্যা হচ্ছে। কারণ, তাঁর পেট বরাবরই সংবেদনশীল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে।
সাবার কথায়, এক দিন বাইরে থাকার সময় হঠাৎ শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে। বন্ধুকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। তার পরেই আচমকা চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখেন। সম্পূর্ণ সচেতন বোধ করতে প্রায় ২০-২৫ মিনিট সময় লেগেছিল তাঁর। তার পরেও মাথা ঝিমঝিম করছিল এবং চারপাশের পরিস্থিতি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল।
এর পরেই দ্রুত এমআরআই করানো হয়। পরীক্ষায় মস্তিষ্কের থার্ড ভেন্ট্রিকলের কাছে অস্বাভাবিক একটি অংশ নজরে আসে চিকিৎসকদের। পরে সেটিকে কোলয়েড সিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বলে জানান সাবা। প্রায় ছয় মাস পর তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছিল।
সাবার কথায়, ২৭ বছর বয়সে এমন কোনও ঘটনার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। এক দিন সুস্থ থাকা মানুষকে পরের দিনই যখন মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের কথা শুনতে হয়, তখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন মুহূর্তে থমকে যায়। এমন অভিজ্ঞতা মানসিক ভাবে ভেঙে দিতে পারে। তবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে গিয়ে মানুষ নিজের মধ্যে নতুন শক্তিও খুঁজে পান।
অস্ত্রোপচারের শারীরিক ধকলের পাশাপাশি মানসিক চাপও সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। সাবা জানান, কখনও কখনও কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই কেঁদে ফেলতেন। এমন একটি খবর মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যা তাঁর জীবনে আসতে পারে বলে কখনও ভাবেননি।
সাবার এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, আকস্মিক অসুস্থতা শুধু শরীরের উপর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ চেতনা হারানোর মতো ঘটনা ঘটলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।