রাহুলের মৃত্যুর পর নীরবতা ভাঙল প্রযোজনা সংস্থা!
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিন দিন কেটে গিয়েছে। এই সময় জুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থাকে ঘিরে—বিশেষ করে কেন এত বড় ঘটনার পরেও সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। অবশেষে নীরবতা ভেঙে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করল সংস্থা। আর সেই বিবৃতিতেই সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আর মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদে থাকতে চান না।
সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। লীনার পদে থাকা নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেই কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই শিল্পীমহলের একাংশ সরাসরি প্রশ্ন তুলছিলেন লীনা এবং তাঁর সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। কেন তাঁরা এতদিন নীরব ছিলেন? কেন রাহুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাননি? এই সব প্রশ্ন ক্রমশ জোরাল হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই বিবৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সংস্থা তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছে, এটি শুধুমাত্র লীনার একার প্রতিষ্ঠান নয়। তাঁর সঙ্গে সমানভাবে যুক্ত রয়েছেন শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১০ সাল থেকে লীনা এই সংস্থার সঙ্গে ‘ক্রিয়েটিভ হেড’ হিসেবে কাজ করছেন এবং মূলত সৃজনশীল দিকটাই সামলান তিনি।
ঘটনার দিন শৈবাল শহরে ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি মুম্বই থেকে তড়িঘড়ি ফিরে আসেন এবং রাহুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। তবে সংস্থার দাবি, পরিবারের পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় তিনি কথা না বলেই ফিরে যান। যদিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাহুলের মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হল শুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমুদ্রের জলে শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, ওই শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। তবে প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, তারা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।
সংস্থা আরও দাবি করেছে, দুর্ঘটনার সময় ইউনিটের সদস্যরা রাহুলকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। প্রথমে তাঁকে কাছাকাছি একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসক না থাকায় পরে দিঘা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
সবশেষে, বিবৃতিতে এক আবেগঘন সুরও ধরা পড়ে। সংস্থা জানিয়েছে, রাহুল শুধু সহকর্মী নন, তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
এই ঘটনার পর বিনোদন জগতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্ববোধ এবং প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে—সত্যিটা সামনে আসবে কি না, সেটাই দেখার।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না