‘লাল সন্ত্রাস’ প্রায় অতীত, নকশালমুক্ত ভারতের ঘোষণা আসন্ন: লোকসভায় বার্তা অমিত শাহ-র

নকশালমুক্ত ভারতের ঘোষণা আসন্ন! ভারতে মাওবাদী বা নকশাল সমস্যার অবসান প্রায় নিশ্চিত—লোকসভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, “লাল সন্ত্রাসের ছায়া কার্যত সরে গিয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক…

March 31, 2026
1 min read

নকশালমুক্ত ভারতের ঘোষণা আসন্ন!

ভারতে মাওবাদী বা নকশাল সমস্যার অবসান প্রায় নিশ্চিত—লোকসভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, “লাল সন্ত্রাসের ছায়া কার্যত সরে গিয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই দেশের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুতে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল কেন্দ্র।

আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতকে মাওবাদী-মুক্ত করা হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে সোমবার লোকসভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ জানান, দেশের বেশিরভাগ মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে এবং উন্নয়নের পথে হাঁটছে।

বিশেষ করে বস্তার-এর উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। একসময় এই অঞ্চলকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হত। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে বলেই দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তাঁর মতে, আগে ‘লাল সন্ত্রাস’-এর কারণে এই এলাকায় উন্নয়ন পৌঁছোতে পারেনি। স্কুল, রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা—সবই ছিল অনুন্নত। এখন ধাপে ধাপে গ্রামে গ্রামে স্কুল তৈরি হয়েছে, রেশন দোকান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হয়েছে।

শাহ স্পষ্ট করে জানান, নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছিল—একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে কড়া নিরাপত্তা অভিযান। যাঁরা মূলস্রোতে ফিরতে চান, তাঁদের জন্য আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু যারা অস্ত্র তুলে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও রেয়াত করা হবে না—এই বার্তাও দেন তিনি।

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ কিছু পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। গত দু’বছরে প্রায় ৪,৮০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ২,২০০-রও বেশি, আর অভিযানে নিহত হয়েছেন ৭০০-র বেশি। তাঁর দাবি, এই তথ্যই প্রমাণ করে যে সশস্ত্র অভিযানের পাশাপাশি পরিকল্পিত পদক্ষেপেই এই সাফল্য এসেছে।

এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের, বিশেষত কংগ্রেসের সমালোচনাও করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, যারা শুধু আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলছিল, তাদের জন্য এই ফলাফলই জবাব। কারণ বাস্তবে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগেই পরিস্থিতির বদল ঘটেছে।

শাহ আরও জানান, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে এই অভিযানের রূপরেখা তৈরি হয়। এরপর ধারাবাহিক পরিকল্পনা এবং কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দেশের প্রায় এক ডজন রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ দমন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সরকারের দাবি—ভারত এখন কার্যত নকশালমুক্ত। শুধু প্রশাসনিকভাবে সেই ঘোষণা বাকি। তবে এই বক্তব্যের রাজনৈতিক ও বাস্তবিক তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক চলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

একসময় যে ‘লাল করিডর’ দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তা যদি সত্যিই ইতিহাস হয়ে যায়—তবে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করবে।

শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *