রাহুলের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়!
টলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমেছে। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারি যাত্রায় রাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃত্যু সংবাদ সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই খবর পেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁর মা। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী জানান, তিনি এখন রাহুলের বাড়িতেই রয়েছেন।
সুদীপ্তা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “রাহুল অতীত হয়ে গেছে—এটি ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। আমার সব কিছুই তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। বলার ভাষা নেই।” মায়ের দুঃখ, সহকর্মীদের অভিভূত শোক—সব মিলিয়ে টলিপাড়া এখন শোকস্তব্ধ।
পরিচালক অরিন্দম শীল, যিনি ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিতে রাহুলকে অজিতের চরিত্রে পরিচালনা করেছিলেন, জানান, “ও তো আমার অজিত। পড়াশোনা করতে ভালবাসত, বইয়ের প্রতি অদম্য ভালোবাসা ছিল। ‘কর্পূর’ হল ভিজিট করতে গিয়েছিলাম, তখনই আচমকাই খবর পেলাম। এক মিনিট নীরবতা, শুধু এটুকুই করতে পারলাম।”
অভিনেতা চন্দন সেনও বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, “বহু দিনের সঙ্গী চলে গেল। ও থিয়েটারেও নতুন করে যোগ দিয়েছিল। কাজের জন্য অনেক পরিকল্পনা ছিল। এমনিতে নেশাও ছেড়ে দিয়েছিল। নতুন উদ্যমে নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগাত।”
চৈতি ঘোষালও শোকাহত। তিনি বলেন, “আমাকে ওর মৃত্যুর খবরে প্রতিক্রিয়া দিতে হচ্ছে—এটি অকল্পনীয়। সম্প্রতি আমাকে পডকাস্টে ডেকেছিল। ও পড়াশোনা খুব ভাল করত। ওর সঙ্গে দেখা হলেই আন্তরিক আলাপ হতো। এখন ওকে আর অরুণ বলে ডাকতে পারব না। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।”
রূপম ইসলাম, যিনি রাহুলের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-এর প্রথম পর্বে অতিথি ছিলেন, জানান, “রাহুলকে আমি নায়ক হিসেবে চিনি, তবে ওর মতামত, লেখা ও আলোচনা আমাকে ওর স্বতন্ত্র কণ্ঠের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। ও যেন ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকেও আলাদা। প্রথম পর্বে আমাকে রাখতে চেয়েছিল—এতে বোঝা যায় ও কতটা খোঁজ রাখে। আমাদের আলাপচর্চা, ওর পড়াশোনার গভীরতা সব মনে পড়ছে।”
রাহুলের মৃত্যু সংবাদে অভিনেতা-পরিচালক, সহশিল্পী এবং বন্ধুরা সবাই স্তব্ধ। তাঁরা স্মৃতিচারণে তাকে মনে রাখার চেষ্টা করছেন—একটি তীক্ষ্ণ মেধা, অন্তরঙ্গতা এবং অভিনয়ের প্রতি নিবেদিত মন নিয়ে। টলিপাড়া এই অকাল ক্ষতির শোক সামলাতে সময় পেতে হবে।
রাহুলের অনুপস্থিতি শুধু শূন্যতা নয়, এটি তাঁর পরিবারের জন্য গভীর বেদনা এবং শিল্পী মহলে এক অভাবনীয় ক্ষতি। মা, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সহকর্মী ও বন্ধুদের চোখে জল—এটি প্রমাণ করছে, তাঁর অনুপস্থিতি সহজে ভরা যাবে না।
সংক্ষেপে, রাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারকেই নয়, পুরো টলিপাড়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্মৃতি, ভালবাসা ও শিল্পী জীবনের প্রতিফলনই এখন তাঁকে মনে রাখার একমাত্র মাধ্যম।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না