পানিহাটিতে প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মা!
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় সিদ্ধান্ত নিল Bharatiya Janata Party। বিতর্ক, আবেগ এবং বার্তার মিশেলে দলটি পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মাকে। এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি তাদের তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে মোট ১৯টি কেন্দ্রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনও ১৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নতুন মুখকে সামনে এনেছে দল।
পানিহাটি কেন্দ্রের এই প্রার্থীপদ নিয়ে আগেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। নির্যাতিতার মা নিজেই ভোটে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। পরে তিনি ও তাঁর স্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। অবশেষে দলীয় তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা হতেই সেই জল্পনার অবসান হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা—নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সরাসরি ভোটের ময়দানে নিয়ে আসা। নির্যাতিতার মা নিজেও জানিয়েছেন, এই লড়াই শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি তাঁর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। তাঁর কথায়, তিনি জিতলে সেটি হবে সাধারণ মানুষের জয়, বিশেষ করে তাঁদের, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ভয় পান।
এদিকে পানিহাটি কেন্দ্রে লড়াই জমে উঠছে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। All India Trinamool Congress ইতিমধ্যেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে Communist Party of India (Marxist)-ও প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
শুধু পানিহাটি নয়, বিজেপির এই তালিকায় কোচবিহার দক্ষিণ, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, হাওড়া মধ্য, সিঙ্গুর, চন্দননগর, তমলুক-সহ একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম রয়েছে। নতুন ও পুরনো মুখের মিশেলে দলটি তাদের কৌশল সাজিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পুরো রাজ্য জুড়ে নির্বাচনের উত্তাপ ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। ২৯৪টি আসনে ভোট হবে দুই দফায়—২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ফল প্রকাশ ৪ মে। এর মধ্যে All India Trinamool Congress সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে, Communist Party of India (Marxist) কয়েক দফায় তালিকা প্রকাশ করেছে, আর বিজেপি এখনও শেষ তালিকার অপেক্ষায়।
আরজি করের ঘটনার প্রসঙ্গও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই নির্যাতিতার পরিবার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সত্য পুরোপুরি সামনে আসেনি। সেই ক্ষোভই হয়তো এখন রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন রূপ নিচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে কি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? যদিও বিজেপির মতে, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়—আবেগ, প্রতিবাদ এবং বার্তারও এক বড় মঞ্চ হয়ে উঠছে।