দেবের উদ্যোগ, পাল্টা ব্যাখ্যায় স্বরূপ বিশ্বাস!
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে নানা সমস্যার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্য বিমা। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাবে ভুগছিলেন বহু কলাকুশলী। এবার সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন অভিনেতা ও সাংসদ Dev। তবে তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, কারণ পাল্টা মত সামনে এনেছেন ফেডারেশনের সভাপতি Swarup Biswas।
দুই বছর ধরে নেই স্বাস্থ্য বিমা
টলিপাড়ার বহু টেকনিশিয়ানের জন্য ২০১৯ সালে একটি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চালু হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত প্রায় দু’বছর ধরে সেই সুবিধা আর চালু নেই।
এর ফলে হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক টেকনিশিয়ানকে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। নিয়মিত কাজ না থাকায় অনেকের পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
দেবের নতুন উদ্যোগ
এই পরিস্থিতিতেই দেব জানিয়েছেন, প্রায় সাত হাজার টেকনিশিয়ানকে রাজ্য সরকারের Swasthya Sathi প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলে প্রত্যেক পরিবার প্রায় ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিনে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে।
দেবের কথায়, সম্প্রতি কয়েকজন টেকনিশিয়ান তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে তাঁদের কোনও স্বাস্থ্য বিমা নেই। সেই কথাই তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। এরপরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে সমালোচনা
তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা হওয়ায় সমালোচনাও শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, রাজ্যের ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দেব বলেন, নির্বাচন হোক বা না হোক— টেকনিশিয়ানদের পাশে থাকার চেষ্টা তিনি সব সময়ই করেন। তাঁর মতে, সিনেমা শিল্পে অভিনেতা এবং টেকনিশিয়ান একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।
শিল্পমহলের সমর্থন
পরিচালক Sudeshna Roy এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আগে যে বিমা প্রকল্প ছিল তাতেও ৫ লক্ষ টাকার কভারেজ পাওয়া যেত। কিন্তু পরে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায় এবং নতুন করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ও চালু হয়নি। ফলে গত দু’বছর টেকনিশিয়ানরা কোনও বিমার আওতায় ছিলেন না।
ভেন্ডার গিল্ডের সম্পাদক সৈকত দাসও দেবের পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, যদি সবাই এই সুবিধা পান, তা হলে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার উপকৃত হবে।
ভিন্ন মতও আছে
তবে সবাই এক মত নন। রূপসজ্জাশিল্পী পাপিয়া চন্দের মতে, বিমার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত কাজ পাওয়া। তাঁর যুক্তি, কাজ থাকলে আয় থাকবে, আর তখন চিকিৎসার খরচ সামলানো সহজ হবে।
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে অনেক টেকনিশিয়ানের আর্থিক সামর্থ্য কম, তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ফেডারেশনের পাল্টা বক্তব্য
এদিকে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য বিমা নিয়ে আলোচনা আগেই হয়েছিল। সংস্কৃতি দফতর থেকেও টেকনিশিয়ানদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছিল।
তবে ফেডারেশন জানতে চেয়েছিল— আগের ‘ক্যাশলেস মেডিক্লেম’-এ যে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যেত, নতুন প্রকল্পে সেই সুবিধা মিলবে কি না। কারণ অনেক টেকনিশিয়ানের পরিবার আগেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
তাঁর দাবি, আগের বিমা প্রকল্পটি ফের চালু করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে একটি বিমা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে, টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলেছে। তবে কোন উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কার্যকর হবে— সেটাই এখন দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?