এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তা মোদীর, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সতর্কতা

এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তা মোদীর! দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেউ যদি পরিস্থিতির সুযোগ…

March 13, 2026
1 min read

এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তা মোদীর!

দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেউ যদি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেন বা কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিল্লিতে এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়েছে, ভারতও তার বাইরে নয়। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে। তাঁর মতে, কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছেন, যা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর।

মোদী বলেন, “আমি রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না, তবে যারা মানুষের মধ্যে অযথা ভয় ছড়াচ্ছেন, তারা নিজেরাই নিজেদের আসল মুখ দেখিয়ে দিচ্ছেন। এতে দেশেরই ক্ষতি হচ্ছে।”

কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কালোবাজারি চালানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আইন ভাঙলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলিকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকারের উদ্বেগও প্রকাশ করেন মোদী। তাঁর কথায়, বিশ্ব এখন এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। তবে ভারত নিজের উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষ—সবারই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোভিডের সময় যেমন দেশ একসঙ্গে লড়েছিল, তেমনই এই পরিস্থিতিও ভারতের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ভাবে সামাল দিতে পারবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা

রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একই সঙ্গে সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের পথ সচল রাখা—এই দু’টিকেই ভারতের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধ নয় বরং কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

জ্বালানি সরবরাহে চাপের কারণ

বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহণ হয়। পরিস্থিতির জেরে বহু জাহাজ সেখানে আটকে পড়েছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

ভারত সরকার অবশ্য জানিয়েছে, দেশে খনিজ তেলের বড় কোনও সংকট নেই। তবে আমদানিনির্ভর এলপিজি সরবরাহ কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবু কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। কোথাও বুকিংয়ের পরেও সিলিন্ডার পৌঁছতে দেরি হচ্ছে, আবার কোথাও বুকিং করতেও সমস্যা হচ্ছে। এর জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে বলেছেন—অযথা আতঙ্ক নয়, সহযোগিতাই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *