২০ হাজার কোটি ডলারের গোপন শক্তি: খামেনেইয়ের ছায়া অর্থনীতি যেভাবে আমেরিকা-ইজ়রায়েলকে হুঁশিয়ার করছে

২০ হাজার কোটি ডলারের গোপন শক্তি ইরান-ইউএস/ইজ়রায়েল সংঘাতের উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। কখনও ‘কামিকাজ়ে’ ড্রোন, কখনও ‘হাইপারসনিক’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র—এই জোড়া হাতিয়ারেই তেহরান রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে দুই মহাশক্তির। কিন্তু প্রশ্ন…

March 10, 2026
1 min read

২০ হাজার কোটি ডলারের গোপন শক্তি

ইরান-ইউএস/ইজ়রায়েল সংঘাতের উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। কখনও ‘কামিকাজ়ে’ ড্রোন, কখনও ‘হাইপারসনিক’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র—এই জোড়া হাতিয়ারেই তেহরান রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে দুই মহাশক্তির। কিন্তু প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, যুদ্ধ চালানোর ব্যয় কীভাবে বহন করছে ইরান? উত্তর মিলছে দেশটির গোপন অর্থনীতি বা ‘ছায়া অর্থনীতি’-র আড়ালে।

ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ইরানের এই অর্থনীতি ২০ হাজার কোটি ডলারের মতো বিশাল এবং এটি মূলত শিয়া ধর্মগুরু ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নিয়ন্ত্রণে। শুধু তাই নয়, আধা-সেনা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এবং তাদের কমান্ডাররাও এতে জড়িত।

ইরানের ছায়া অর্থনীতি প্রথম তৈরি হয় ১৯৮০ সালের ইরাক-ইরান যুদ্ধে। নিষেধাজ্ঞার জালে আটকে থাকা তেহরানকে অস্তিত্ব রক্ষায় টিকতে এই ব্যবস্থা চালু করেছিলেন খামেনেই। শুরুতে তেলের চোরাচালান ও বিদেশি সহযোগিতার মাধ্যমে তহবিল তৈরি করা হতো। ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি এই চক্রকে আরও শক্তিশালী করেছে। বেজিংর সঙ্গে রেনমিনবিতে লেনদেনের মাধ্যমে তেহরান আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছে।

তেহরানের ছায়া অর্থনীতির আরেকটি স্তম্ভ হলো পশ্চিম এশিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী। লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজা অঞ্চলের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথি—আইআরজিসি তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিনিময়ে মোটা অর্থও আসে তেহরানে। এছাড়াও দেশের ভেতরের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি—রাজপরিবার ও ধনকুবেরদের সম্পদ—ও ছায়া অর্থনীতির জন্য কাজে লাগানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক কাঠামো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দৃঢ় করেছে। ড্রোন, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক হেলমেট—সবকিছুতে বিনিয়োগ সম্ভব হয়েছে এই অর্থনীতি দিয়ে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, খামেনেই ব্যক্তিগত জীবনে এ অর্থ ব্যবহার না করলেও, রাষ্ট্র ও আইআরজিসির মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ তহবিল নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

আলায়েন্স সেন্টার ফর ইরানিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক মেইর লিটভাক বলেন, “ইরানের ছায়া অর্থনীতি একরকম অক্টোপাস। তারা শুধু আমেরিকা বা ইজ়রায়েলের সঙ্গে নয়, রাশিয়া, চীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়ার মতো বহু দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখে। এমনকি ভারতের মতো নিরপেক্ষ দেশের সঙ্গে সম্পর্কও তারা বজায় রাখে।”

সংক্ষেপে, খামেনেই এবং আইআরজিসি-এর এই ছায়া অর্থনীতি শুধুই তেহরানের অর্থনৈতিক শক্তি নয়, এটি তাদের সামরিক এবং কৌশলগত স্বাধীনতার মূল স্তম্ভ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যতই চাপ দিক, তেহরান এখনও যুদ্ধের জন্য ছয় মাসের রসদ তৈরি রাখে। প্রশ্ন হলো, এই বিশাল ক্ষমতা কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার হবে—উত্তর আগামী দিনে মিলবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *