রাজ্যপাল পদ ছাড়ার পর নীরব আনন্দ বোস!
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথম বার কলকাতায় ফিরে মুখ খুললেন সিভি আনন্দ বোস। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট— সিদ্ধান্তটি ভেবেচিন্তেই নেওয়া, কিন্তু এর নেপথ্যের কারণ আপাতত প্রকাশ করতে চান না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক থেকেও সচেতন দূরত্ব বজায় রাখলেন তিনি।
রবিবার দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বোস বলেন, তিনি মনে করেছেন এটাই ইস্তফা দেওয়ার সঠিক সময়। কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন— সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে তিনি একটি উপমা দেন। তাঁর কথায়, “খেলার একটা নিয়ম আছে— কখন খেলা শেষ করতে হবে তা জানতে হয়। রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই জানতাম, কোনও না কোনও সময়ে এই পদ ছাড়তেই হবে। আমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, আর আমি ভেবেচিন্তেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সিদ্ধান্তের আসল কারণ এখনই প্রকাশ করতে চান না। তাঁর ভাষায়, “সঠিক সময় এলে সব জানা যাবে।”
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন প্রাক্তন রাজ্যপালকে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য নিয়ে যে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়।
কিন্তু বোস অত্যন্ত সতর্কভাবে মন্তব্য এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “বিদায়ী রাজ্যপাল হিসেবে এই বিষয়ে আমার মন্তব্য করা উচিত নয়।”
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ এবং সম্মাননীয় একজন ব্যক্তি। তিনি যা বলেছেন, তার নিশ্চয়ই নিজস্ব কারণ রয়েছে। সেই বিষয়ে মন্তব্য করার আমি কেউ নই।”
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী। অন্য দিকে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
আনন্দ বোসের ইস্তফা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিত দেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রের চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়াতেও নীরব থাকতেই পছন্দ করলেন বোস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন, “দেয়ার ইজ় নো অ্যাকশন, দেয়ার ইজ় নো রিঅ্যাকশন।” অর্থাৎ, এই বিষয়ে তাঁর আর কিছু বলার নেই।
ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসার সময় তিনি দিল্লিতে ছিলেন। যদিও বোস জানিয়েছেন, তিনি কলকাতায় থাকতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লি যাওয়ার পরে নয়। তিনি বলেন, “আমি দিল্লি গিয়েছিলাম, আবারও যাব। কিন্তু ইস্তফার সিদ্ধান্ত কলকাতাতেই নেওয়া হয়েছিল।”
আরও একটি বিষয় উল্লেখ করেন প্রাক্তন রাজ্যপাল। দায়িত্বে থাকাকালীনই তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজ্যের একজন ভোটার।
বোসের কথায়, “আমি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হতে পেরে গর্বিত। ভবিষ্যতে ভোট দিতেও আসব।”
সব মিলিয়ে তাঁর ইস্তফার প্রকৃত কারণ এখনও রহস্যেই রয়ে গেল। তবে আনন্দ বোসের বক্তব্যে স্পষ্ট— সময় এলে হয়তো সেই উত্তর মিলবে। এখন তিনি শুধু জানিয়ে দিলেন, নিজের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছেন, এবং সেটিই তাঁর কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?