র‍্যাপার থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী: তরুণদের ভরসার মুখ বলেন্দ্র শাহ

র‍্যাপার থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী! নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন মুখ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি Balen Shah—তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় নেতা, যিনি একসময় র‍্যাপার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের গণনা চলাকালীন…

March 7, 2026
1 min read

র‍্যাপার থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী!

নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন মুখ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি Balen Shah—তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় নেতা, যিনি একসময় র‍্যাপার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের গণনা চলাকালীন ইঙ্গিত মিলছে, নেপালের বহু তরুণ ভোটার তাঁর উপরেই আস্থা রাখছেন।

৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল বলছে, তরুণ ভোটারদের সমর্থনে এগিয়ে রয়েছে Rastriya Swatantra Party। এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলেন্দ্র শাহ, যিনি ঝাপা–৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং প্রাথমিক গণনায় কয়েক হাজার ভোটে এগিয়েও রয়েছেন।

পুরনো রাজনীতির বিরুদ্ধে নতুন মুখ

এই আসনেই লড়ছেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli। তাঁর দল Communist Party of Nepal (UML) দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাবশালী। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নতুন প্রজন্ম পুরনো দলগুলির বদলে নতুন নেতৃত্বের দিকেই ঝুঁকছে।

প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ১৬৫টি আসনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বহু আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, নেপালের ঐতিহ্যবাহী দল Nepali Congress তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

এই ফলাফল অনেকটাই ইঙ্গিত করছে—দেশের তরুণ ভোটাররা পরিবর্তন চাইছেন।

তরুণদের আইকন হয়ে ওঠা

মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই বলেন্দ্র শাহ নেপালের তরুণদের কাছে এক ধরনের আইকনে পরিণত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে তাঁর জনসভাগুলিতে বিপুল ভিড় দেখা গিয়েছিল, যার বড় অংশই ছিল ছাত্র-যুব সমাজ।

বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। গত বছরের ছাত্র-যুব আন্দোলনের সময়ও তিনি ছিলেন অন্যতম আলোচিত মুখ। সেই আন্দোলনের চাপেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হারায় ওলির সরকার।

সেই সময় থেকেই অনেক তরুণ নেপালি ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্রকেই দেখতে শুরু করেন।

র‍্যাপ মিউজিক থেকে রাজনীতি

আজ তিনি রাজনৈতিক নেতা হলেও তাঁর আরেকটি পরিচয় রয়েছে—তিনি একজন পরিচিত র‍্যাপ শিল্পী। রাজনীতিতে আসার আগে নেপালে র‍্যাপ সংগীতের জগতে তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল।

২০১৩ সালের আগে পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর খুব একটা পরিচিতি ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সামাজিক বিষয় নিয়ে গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

মেয়র পদ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে

২০২২ সালে তিনি বড় চমক দেন। নির্দল প্রার্থী হিসেবে Kathmandu শহরের মেয়র নির্বাচনে দাঁড়িয়ে বড় বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের হারিয়ে জয়ী হন। সেই জয়ই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন্দ্রের পড়াশোনা শুরু হয় নেপালের ভিএস নিকেতন স্কুলে। পরে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন এবং ভারতের Visvesvaraya Technological University থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিতর্ক

তরুণ নেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কাড়ে। ২০২৩ সালে তাঁর নাম উঠে আসে Time ম্যাগাজিনের আলোচিত ব্যক্তিত্বদের তালিকায়। এমনকি The New York Times-এর প্রতিবেদনেও তাঁর স্বচ্ছতা ও তৃণমূল রাজনীতির প্রশংসা করা হয়।

তবে তাঁর রাজনৈতিক পথ পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয়। কিছু মন্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়ে ভারত-নেপাল সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবু তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা তাতে খুব একটা কমেনি।

সব মিলিয়ে, র‍্যাপার থেকে মেয়র—আর এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। বলেন্দ্র শাহের উত্থান নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, ভোটের শেষ ফলাফল তাঁকে সত্যিই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছে দেয় কি না।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *