চোখে ‘স্ট্রোক’-এর মতো বিপদ! কতটা গুরুতর ইমরান খানের অসুখ?

চোখে ‘স্ট্রোক’-এর মতো বিপদ ইমরান খানের!! ডান চোখে ঝাপসা দেখা, লালচে ফোলা ভাব, সঙ্গে অনবরত জল পড়া— এমন অবস্থাতেই সম্প্রতি দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-কে। চোখের গুরুতর সমস্যার…

February 27, 2026
1 min read

চোখে ‘স্ট্রোক’-এর মতো বিপদ ইমরান খানের!!

ডান চোখে ঝাপসা দেখা, লালচে ফোলা ভাব, সঙ্গে অনবরত জল পড়া— এমন অবস্থাতেই সম্প্রতি দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-কে। চোখের গুরুতর সমস্যার কারণে তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেন অক্লুসন নামে একটি জটিল চোখের রোগে আক্রান্ত— যা অনেকটা চোখে “স্ট্রোক”-এর মতো।

কী হয়েছে তাঁর চোখে?

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে রেটিনার প্রধান শিরায় রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিরার ভিতরে রক্ত জমাট বাঁধে, রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং চোখের ভিতরে তরল জমতে থাকে। এর ফলে চোখ ফুলে ওঠে, লাল হয়ে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমতে থাকে। জানা গেছে, ইমরানের ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টি ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই রোগে সাধারণত প্রথমে পাশের দিকের দৃশ্য দেখা কমে যায়। পরে ধীরে ধীরে সামনে দেখাও ঝাপসা হয়ে ওঠে। অনেক সময় চোখ থেকে অনবরত জল পড়া, ব্যথা বা চাপ অনুভূতিও হয়।

কেন হয় এই রোগ?

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের

  • উচ্চ রক্তচাপ,
  • ডায়াবিটিস,
  • রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি,
    তাঁদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।

আসলে এটি রেটিনার শিরায় “থ্রম্বাস” বা রক্ত জমাট বাঁধার ফল। এতে চোখের ভেতরের চাপ (ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার) বেড়ে যায় এবং রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে?

হ্যাঁ— চিকিৎসকেরা স্পষ্ট বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই রোগে স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকি থাকে। কারণ রেটিনার কেন্দ্রস্থল ফুলে গেলে ও রক্তক্ষরণ বাড়লে চোখের কোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কীভাবে চিকিৎসা হয়?

এই রোগের চিকিৎসা কয়েক ধাপে করা হয়—

১. ইনজেকশন থেরাপি:
প্রথমেই চোখে বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা ফোলা কমায় ও রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

২. লেজার চিকিৎসা:
প্রয়োজনে ডায়োড লেজার থেরাপি করা হয়। এতে নির্দিষ্ট তরঙ্গের লেজার রশ্মি চোখের ভেতরে পাঠিয়ে রক্তপ্রবাহের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং চাপ কমানো হয়।

৩. অস্ত্রোপচার:
যদি রেটিনার কেন্দ্রে মারাত্মক ক্ষতি হয়, তখন সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

খবর অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরেই চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন ইমরান, কিন্তু দীর্ঘদিন শুধু আই ড্রপেই সীমাবদ্ধ ছিল চিকিৎসা। ফলে রোগটি গুরুতর হয়ে ওঠে। এখন তাঁর চোখে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, তবু দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরবে কি না— তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

শেষ কথা

সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেন অক্লুসন একটি অত্যন্ত গুরুতর চোখের রোগ, যা দ্রুত চিকিৎসা না হলে স্থায়ী দৃষ্টিহানির কারণ হতে পারে। তাই চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা, লালভাব বা চাপ অনুভূত হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *