রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ থেকে অনুপ্রেরণার প্রতীক ময়ঙ্ক পওয়ারের শেষ অধ্যায়!
মাত্র ৩৭ বছর বয়সে থেমে গেল এক অনুপ্রেরণাময় জীবনের পথচলা। ফিটনেস জগতের পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো MTV Splitsvilla–এর সপ্তম সিজনের প্রতিযোগী Mayank Pawar-এর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অনুরাগী মহলে। সোমবার তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়।
পরিবারের তরফে দেওয়া পোস্টে লেখা ছিল— ময়ঙ্ক শুধু একজন ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার নন, তিনি ছিলেন একজন পরামর্শদাতা, বন্ধু এবং বহু মানুষের অনুপ্রেরণা। যাঁরা তাঁকে চিনতেন, তাঁদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ৩৭ বছরে পা দিয়েছিলেন ময়ঙ্ক। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই অকালপ্রয়াণে সমাজমাধ্যমে শোকবার্তার ঢল নেমেছে। তাঁর সহ-প্রতিযোগী, অনুরাগী এবং ফিটনেস দুনিয়ার বহু মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রিয়্যালিটি শো থেকে জনপ্রিয়তা
ময়ঙ্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান MTV Splitsvilla–এর সপ্তম সিজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। শোয়ের সময় তাঁর স্পষ্টভাষী মনোভাব, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং মানবিক আচরণ দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
শোয়ের সঞ্চালক Sunny Leone এবং সহ-সঞ্চালক Nikhil Chinappa— দু’জনেই তাঁর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এমনকি প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ার সময় ময়ঙ্কের বিদায়ে চোখের জল ফেলতেও দেখা যায় সানিকে।
ফিটনেস ছিল জীবনের মূলমন্ত্র
১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম ময়ঙ্কের। Delhi–র ফিটনেস মহলে তিনি ছিলেন সুপরিচিত নাম। পেশাদার বডিবিল্ডার ও প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি বহু প্রতিযোগিতায় জয়ী হন এবং নিজের জন্য একটি সম্মানজনক জায়গা তৈরি করেন।
রিয়্যালিটি শোয়ের পর তিনি আর টেলিভিশনে খুব একটা দেখা না গেলেও, ফিটনেস জগতেই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেন। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে পোস্ট করতেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় বহু তরুণ ফিটনেসের পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন।
শেষ শ্রদ্ধা
ময়ঙ্কের স্মরণে নয়াদিল্লির রানা প্রতাপ বাগ এলাকার সঙ্গম পার্কের বাল্মীকি মন্দিরে প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীরা সেখানে একত্রিত হয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
অকালেই থেমে গেল এক লড়াকু, অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনের গল্প। কিন্তু ফিটনেসের প্রতি তাঁর নিবেদন, ইতিবাচক মনোভাব এবং মানুষকে উৎসাহ দেওয়ার যে উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেলেন— সেটাই হয়তো তাঁকে চিরদিন জীবিত রাখবে মানুষের মনে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?