বিধায়কদের ঘিরে সতর্ক তৃণমূল-বিজেপি!
রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন চূড়ান্ত সতর্কতার আবহ। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির— তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি— কেউই আগেভাগে কোনও পদক্ষেপ নিতে চাইছে না। বরং “ধীরে চলো” কৌশল নিয়েই তারা মনোনয়ন জমার শেষ দিন ৫ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছে।
অঙ্ক পরিষ্কার, তবু উত্তেজনা কেন?
১৬ মার্চ দেশের ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনে রাজ্যসভা ভোট হবে। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনের মধ্যে বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে চারটি তৃণমূলের এবং একটি বিজেপির জেতা প্রায় নিশ্চিত।
তবুও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা— কোনও পক্ষ কি ষষ্ঠ প্রার্থী নামিয়ে চমক দিতে পারে?
কারণ, অতিরিক্ত প্রার্থী দিলে ভোটাভুটি অনিবার্য হয়ে উঠবে। আর সেই পরিস্থিতিতে ‘ক্রস ভোটিং’-এর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে— যা এখন দুই দলেরই বড় মাথাব্যথা।
‘ডামি প্রার্থী’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা
এই বিতর্কের সূত্রপাত আগের রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির কৌশল থেকেই। তখন দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি একজন করে ‘ডামি’ প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দিয়েছিল বিজেপি।
দলের ব্যাখ্যা ছিল— কোনও কারণে মূল প্রার্থীর মনোনয়নে সমস্যা হলে বিকল্প রাখতে। পরে অবশ্য প্রত্যাহারের দিন ডামি প্রার্থীরা সরে দাঁড়ান।
এবারও বিজেপি একই পথ নেবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে তৃণমূল শিবিরে।
নজর এখন ‘অনিশ্চিত’ বিধায়কদের দিকে
বিধানসভা ভোটের আগে অনেক বিধায়কের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। আর সেই অসন্তোষ থেকেই তৈরি হতে পারে ক্রস ভোটিংয়ের পরিস্থিতি।
তাই যেসব বিধায়ক টিকিট নিয়ে দোটানায়— তাঁদের উপর বিশেষ নজর রাখছে দুই দলই। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী শিবিরকে সুযোগ না দিতেই এই সতর্কতা।
তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা, টিকিট না পাওয়া ক্ষুব্ধ বিধায়কদের ভাঙিয়ে বিজেপি অতিরিক্ত আসনের চেষ্টা করতে পারে। তবে শাসকদলের দাবি— শেষ পর্যন্ত সংখ্যার অঙ্কে এই কৌশল সফল হওয়া কঠিন।
সংখ্যার অঙ্ক কী বলছে?
একজন প্রার্থী জিততে দরকার ৫০ জন বিধায়কের প্রথম পছন্দের ভোট।
- বিজেপির হাতে অতিরিক্ত ভোট মাত্র ১৪টি
- ষষ্ঠ প্রার্থী জেতাতে প্রয়োজন আরও অন্তত ৩৬ ভোট
এই কারণে শাসকদলের মতে, অতিরিক্ত প্রার্থী দেওয়া “বাস্তবে অসম্ভব”।
তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি— চার প্রার্থী নিশ্চিত করলেও একক শক্তিতে ষষ্ঠ প্রার্থী জেতানোর মতো সংখ্যা কারও হাতে নেই।
দলবদলেই বেড়েছে সতর্কতা
সম্প্রতি কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দলবদলের পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। ফলে বিধায়কদের আনুগত্য ধরে রাখাই এখন দুই দলের বড় লক্ষ্য।
অপেক্ষা এখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত
৯ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেই পরিষ্কার হবে চিত্র।
যদি শেষ পর্যন্ত তৃণমূল চার এবং বিজেপি এক প্রার্থীই রাখে, তবে ভোটাভুটির প্রয়োজনই হবে না— অঙ্কের নিয়মে তাঁরাই নির্বাচিত হবেন।
সব মিলিয়ে, রাজ্যসভা ভোটের আগে এখন মূল লড়াই সংখ্যার নয়— বরং কৌশল, সতর্কতা আর রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের। দুই শিবিরই তাই একে অপরের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে সময় নিচ্ছে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই