নথি যাচাইয়ে গতি আনতে তৎপর বিচারপতিরা!
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাইয়ের কাজ আর দেরি নয়— সোমবার থেকেই জোরকদমে সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ মেনে এই যাচাই-পর্ব চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিচারকদের জন্য ২০২টি লগ-ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
🔶 দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ
বৈঠকে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বার্তা দেন— সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। বিপুল পরিমাণ কাজ এখনও বাকি রয়েছে, তাই দ্রুত নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি শুরু করতে হবে।
তিনি আরও জানান, নাগরিকত্ব নির্ধারণ আদালতের কাজ নয়। শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
🔶 ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি
রবিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের কাজের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়। কোন নথি কীভাবে যাচাই করতে হবে, কী নিয়ম মেনে নিষ্পত্তি করতে হবে— সবই সেখানে স্পষ্ট করা হয়।
সোমবার আবার বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন জেলার জুডিশিয়াল অফিসাররা। জানা গেছে, অনলাইন পোর্টাল ব্যবহারের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে ওটিপি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা থাকলেও তা মিটে গেছে।
🔶 নথি নিয়ে মতবিরোধ
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বৈঠকে বলেন, নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে অন্য প্রমাণপত্র গ্রহণ না করলে বহু মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে আরও সুযোগ দেওয়া উচিত।
তবে কমিশনের যুক্তি— ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই সুযোগ ছিল, এখন নতুন করে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলও জানান, অন্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতির তুলনা করা ঠিক নয়।
🔶 নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
কিছু বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বিশেষ করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে কাজ করার সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকায় প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
প্রধান বিচারপতিও জানান, মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যে কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে— প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করা যাবে।
🔶 কত কাজ বাকি?
হাই কোর্ট সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি এখনও বাকি। এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২৪০ জন বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা-ভিত্তিকভাবে কাজ ভাগ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়— কার নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, আর কার নাম বাদ যাবে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই