কেন ভেঙে গিয়েছিল রক্ষিতের সঙ্গে রশ্মিকার বাগ্দান?
দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউড— সর্বত্র এখন একটাই চর্চা, বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার বিয়ে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় আয়োজনেই সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন এই তারকা যুগল। যদিও এই বিয়ের খবরে উচ্ছ্বাসের মাঝেই ফের উঠে আসছে রশ্মিকার জীবনের পুরনো এক অধ্যায়— রক্ষিত শেট্টীর সঙ্গে তাঁর ভেঙে যাওয়া বাগ্দানের গল্প।
রশ্মিকার অভিনয়জীবনের শুরু ২০১৬ সালে, কন্নড় ছবি ‘কিরিক পার্টি’ দিয়ে। সেই ছবির প্রযোজক ছিলেন অভিনেতা রক্ষিত শেট্টী। শুটিংয়ের সময় থেকেই বন্ধুত্ব, আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে প্রেম। সেই সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে ২০১৭ সালে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে বাগ্দানও সেরে ফেলেন দু’জনে। সে সময় রশ্মিকার বয়স মাত্র ২১, আর রক্ষিত ছিলেন ৩৪ বছরের। বয়সের ফারাক থাকলেও তা নিয়ে তখন কোনও দ্বিধা ছিল না তাঁদের।
বাগ্দান অনুষ্ঠান ছিল বেশ বড়সড়। প্রায় আড়াই হাজার অতিথির উপস্থিতিতে আংটি বদল, কেক কাটা— সবই হয়েছিল ঘটা করে। অনুরাগীদের অনেকেই ভেবেছিলেন, খুব শিগগিরই চার হাত এক হবে এই তারকা জুটির। কিন্তু বাস্তবতা অন্য দিকে মোড় নেয়।
২০১৮ সালে সম্পর্কে ফাটল ধরে। বছরের মাঝামাঝি থেকেই শোনা যেতে থাকে মনোমালিন্যের খবর। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে ভেঙে যায় বাগ্দান। দুই পরিবার থেকেই নাকি আংটি ফেরত দেওয়া হয়। তবে সম্পর্ক ভাঙলেও প্রকাশ্যে কোনও তিক্ততা দেখাননি রশ্মিকা বা রক্ষিত— এই বিষয়টিই তাঁদের পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
ঠিক এই সময়েই মুক্তি পায় তেলুগু ছবি ‘গীত গোবিন্দম্’, যেখানে রশ্মিকার বিপরীতে ছিলেন বিজয় দেবরকোন্ডা। ছবিতে তাঁদের অনবদ্য রসায়ন দর্শকের মন কেড়ে নেয়। এরপর থেকেই গুঞ্জন শুরু— বিজয় ও রশ্মিকার ঘনিষ্ঠতাই নাকি রক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ। যদিও এই বিষয়ে কখনও রশ্মিকা, রক্ষিত বা বিজয়— কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে সবটাই থেকে গিয়েছে জল্পনার স্তরেই।
বাগ্দান ভাঙার পর নানা কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল রশ্মিকাকে। কিন্তু তিনি নিজের কাজ দিয়েই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি থেকে বলিউড— একের পর এক সফল ছবিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’।
আজ, বিজয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতির খবরে ফের আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। তবে সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, বদলেছে অগ্রাধিকারও। পুরনো অধ্যায় পেরিয়ে রশ্মিকা এখন নতুন শুরু করার মুখে— আর সেই নতুন পথচলার দিকেই তাকিয়ে অনুরাগীরা।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই