প্রতীক

“বলিউডে বেশির ভাগ বিয়েই লোকদেখানো”— নিজের বিয়েতে কেন বাবাকে ডাকেননি, মুখ খুললেন প্রতীক পাটিল

নিজের বিয়েতে কেন বাবাকে ডাকেননি! পরিবার ভাঙার গল্প সাধারণত চুপিসারেই থেকে যায়। কিন্তু প্রতীক পাটিল সেই নীরবতার দেয়াল ভেঙে নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে বললেন। বাবার পরিচয় ঝেড়ে ফেলে মায়ের নাম…

February 6, 2026
1 min read

নিজের বিয়েতে কেন বাবাকে ডাকেননি!

পরিবার ভাঙার গল্প সাধারণত চুপিসারেই থেকে যায়। কিন্তু প্রতীক পাটিল সেই নীরবতার দেয়াল ভেঙে নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে বললেন। বাবার পরিচয় ঝেড়ে ফেলে মায়ের নাম বেছে নেওয়া, আর নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে—বিয়েতে—বাবা রাজ বব্বরকে না ডাকা, এই দু’টি সিদ্ধান্তই বহু প্রশ্ন তুলেছিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ের প্রথম বছরপূর্তির ঠিক আগে প্রতীক জানালেন, কেন এই কঠিন পথে হাঁটতে হয়েছিল তাঁকে।

প্রতীকের জীবনের শুরুটাই ছিল অসম্পূর্ণতায় ভরা। জন্মের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী স্মিতা পাটিলকে হারান তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবার উপস্থিতি ছিল অনুপস্থিতির মতো। একাধিক সাক্ষাৎকারে প্রতীক আগেও জানিয়েছেন, খ্যাতনামী হয়েও রাজ বব্বর তাঁর জীবনে পাশে দাঁড়াননি। অন্ধকার সময়, মানসিক লড়াই, নিজের পরিচয় খোঁজার যাত্রায় বাবার ছায়া তিনি অনুভব করেননি বলেই দাবি অভিনেতার।

এই কারণেই গত বছর বিয়ের আগে নিজের নামের পাশ থেকে ‘বব্বর’ পদবি সরিয়ে মায়ের দেওয়া পরিচয়—‘পাটিল’—ফিরিয়ে নেন প্রতীক। তাঁর কাছে এটা শুধু নাম বদল নয়, নিজের আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তেরই আর এক ধাপ ছিল, বিয়েতে বাবাকে আমন্ত্রণ না জানানো।

এই নিয়ে হওয়া সমালোচনায় স্পষ্ট বিরক্ত প্রতীক। তাঁর কথায়, “অনেকেই না জেনেই মন্তব্য করছে। একদিন সবাই সত্যটা জানবে। হয়তো বইয়ে, নয়তো পর্দায়। বিয়ের আগে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, সেটা শুধু আমরাই জানি।” প্রতীকের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠকারিতা নয়, বরং বহু দিনের জমে থাকা অভিজ্ঞতার ফল।

এই লড়াইয়ে প্রতীকের পাশে ছিলেন স্ত্রী প্রিয়া। তাঁর কথায়, “আমরা এত কিছু পেরিয়েছি যে নিজেদের নিনজা মনে হত! যা আসবে, দু’জনে একসঙ্গেই মোকাবিলা করব—এই বিশ্বাসটাই আমাদের শক্তি।” প্রিয়ার চোখে তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সাফল্য, কোনও পারিবারিক বা সামাজিক চাপ ছাড়াই নিজেদের মতো করে বিয়েটা করতে পারা।

এখানেই থামেননি প্রতীক। বলিউডের বিয়ে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির বেশির ভাগ বিয়েই আসলে লোকদেখানো। প্রিয়াও সায় দিয়ে বলেন, “ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের মানুষ হিসেবে জানি, অনেকেই বাবা-মা বা পরিস্থিতির চাপে বিয়ে করেন। সত্যিকারের পছন্দ খুব কম ক্ষেত্রেই হয়।”

প্রতীক ও প্রিয়ার কাছে তাঁদের বিয়ে কোনও প্রদর্শনী নয়, বরং দু’জন মানুষের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার অঙ্গীকার। সেই কারণেই হয়তো প্রতীক আজ নির্দ্বিধায় বলতে পারেন—নিজের জীবনের গল্প লেখার অধিকার তিনি আর কারও হাতে ছাড়তে রাজি নন।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *