রোজের ক্লান্তিতে দমবন্ধ?
দূষণ বাড়ছে, সংক্রমণের ঝুঁকিও কম নয়। তার উপর অনিয়মিত জীবনযাপন, কম ঘুম আর টানটান মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি কিংবা অনিদ্রার সমস্যা আজ অনেকের নিত্যসঙ্গী। জিমে যাওয়ার সময় নেই বলেই শরীরচর্চা বন্ধ—এমন ভাবলে চলবে না। অল্প সময়েই শরীর ও মন দু’টোকেই চাঙ্গা রাখতে পারে প্রাণায়াম।
প্রাণায়াম মানেই শুধু শ্বাস নেওয়া-ছাড়া নয়। নিয়মিত অভ্যাসে ফুসফুস শক্তিশালী হয়, শ্বাসযন্ত্র সুস্থ থাকে, অক্সিজেনের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। ফলে হাঁপানি, সাইনাস, দীর্ঘদিনের কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় উপকার মেলে। শুধু তা-ই নয়, মনঃসংযোগ বাড়ে, উদ্বেগ কমে এবং ঘুমের সমস্যাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই প্রতিদিন সকালে ১৫–২০ মিনিট সময় বার করে নিলেই শরীরের বড় উপকার হতে পারে।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি সহজ অথচ কার্যকর প্রাণায়াম—
কপালভাতি
সমতল জায়গায় পদ্মাসন, বজ্রাসন বা সুখাসনে বসুন। মেরুদণ্ড সোজা রাখুন, চোখ বন্ধ করুন। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস ছাড়ার সময় পেটের পেশিতে হালকা চাপ দিন, যেন বাতাস জোরে বেরিয়ে আসে। শ্বাস নেওয়া হবে স্বতঃস্ফূর্ত। দ্রুত লয়ে ১০–২০ বার করে ৪–৫ সেট করুন। এই প্রাণায়াম হজমশক্তি বাড়ায়, ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
ভ্রামরি প্রাণায়াম
পিঠ সোজা রেখে বসুন। চোখ বন্ধ করে দু’হাত হাঁটুর উপর রাখুন। কনুই ভাঁজ করে কানের কাছে হাত আনুন এবং আঙুল দিয়ে কান আলতো করে বন্ধ করুন। নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন। শ্বাস ছাড়ার সময় গলা থেকে মৌমাছির মতো ‘গুনগুন’ শব্দ করুন। মুখ খুলবেন না। এই পদ্ধতি মানসিক চাপ কমায়, অনিদ্রায় দারুণ উপকারী।
ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম
সোজা হয়ে বসে গভীর ভাবে শ্বাস নিন এবং সমান তালে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় যেন সমান হয়। ৩–৫ মিনিট করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। হাঁপানি, সাইনাস বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় এই প্রাণায়াম বিশেষ সহায়ক।
অনুলোম-বিলোম
ডান নাসারন্ধ্র চেপে ধরে বাঁ দিক দিয়ে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। তার পর বাঁ নাসারন্ধ্র বন্ধ করে ডান দিক দিয়ে একই প্রক্রিয়া করুন। ধীরে, ছন্দ বজায় রেখে করুন। এতে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে, স্নায়ু শান্ত হয়।
বিলোম প্রাণায়াম
দু’নাসারন্ধ্র দিয়েই শ্বাস নিন। শ্বাস নেওয়ার সময় তিন ধাপে থামুন—অল্প শ্বাস নিয়ে থামা, আবার নেওয়া, ফের থামা। শ্বাস ছাড়ার সময়ও একই ভাবে তিন ধাপে ছাড়ুন। এই কৌশল শ্বাসের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।
নিয়ম মেনে প্রতিদিন প্রাণায়াম করলে শরীর নিজেই আপনাকে ধন্যবাদ দেবে। ওষুধের উপর নির্ভর না করে, নিজের শ্বাসের জোরেই সুস্থ থাকার সহজ পথ—প্রাণায়াম।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই