শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান!
জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর পর অনেকেই ছুটে যান প্রোটিন শেক, ফলের বাটি বা দামি সাপ্লিমেন্টের দিকে। কিন্তু হৃতিক রোশনের শরীরচর্চার পরের খাবার শুনলে বেশির ভাগ মানুষই খানিকটা অবাক হবেন। বলিউডের গ্রিক গড খ্যাত অভিনেতার প্লেটে নেই ঝাঁ-চকচকে ডায়েট ট্রেন্ড—বরং রয়েছে একেবারে ঘরোয়া, সাদামাটা অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার।
৫২ বছর বয়সেও হৃতিক এখনও অ্যাকশন ছবিতে অনায়াসে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। পর্দায় তাঁর সুঠাম শরীর আজও দর্শকদের চোখ টানে। এই ফিটনেস কোনও জাদু নয়—এর নেপথ্যে রয়েছে কঠোর শরীরচর্চা আর নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের খাবারের থালার একটি ছবি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা, আর সেখানেই খুলে গিয়েছে তাঁর ফিটনেস-রুটিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রহস্য।
ছবিতে দেখা যায়, হৃতিকের থালায় সাজানো নানা রকম তরকারি, একটি রুটি এবং মাঝখানে দুধ-সাদা রঙের নরম কিছু খাবার। প্রথম নজরে সেটিকে অদ্ভুত লাগলেও, ছবির ক্যাপশনেই রহস্য ভেদ করেছেন অভিনেতা নিজেই। হৃতিক লিখেছেন, “শরীরচর্চার পরের অদ্ভুত খাবার, যা সচরাচর কেউ খান না।”
কী কী থাকে তাঁর প্লেটে? হৃতিক জানাচ্ছেন, জোয়ারের রুটি, ঢেঁড়সের তরকারি, বিট, লাউ, বেগুন, শিম—সব মিলিয়ে রকমারি সবজি। সঙ্গে রয়েছে ডিমের সাদা অংশ আর ডাল, যা নাকি তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। অর্থাৎ, কোনও ফ্যান্সি সুপারফুড নয়, কোনও দামি সাপ্লিমেন্টও নয়—বরং ভারতীয় ঘরোয়া রান্নার চেনা স্বাদই তাঁর ভরসা।
আজকের দিনে জিমপ্রেমীদের অনেকেই মনে করেন, ফিট থাকতে গেলে প্রোটিন শেক বা বিশেষ ডায়েট বাধ্যতামূলক। কিন্তু হৃতিক যেন ঠিক উল্টো বার্তাই দিচ্ছেন। তাঁর মতে, দেশি শাকসবজি দিয়েই তৈরি এই ‘মিশম্যাশ’ বা নিজের ভাষায় ‘অদ্ভুত ধরনের খিচুড়ি’ শরীরের জন্য যথেষ্ট পুষ্টিকর। প্রোটিন, ফাইবার আর প্রয়োজনীয় পুষ্টি—সবই পাওয়া যায় এই সাধারণ খাবারেই।
হৃতিকের এই ডায়েট তালিকা মনে করিয়ে দেয়, ফিটনেস মানেই বিলাসবহুল খাওয়াদাওয়া নয়। বরং নিয়ম, পরিমিতি আর ঘরোয়া খাবারের সঠিক মেলবন্ধনই দীর্ঘদিন সুস্থ ও ফিট থাকার আসল চাবিকাঠি। তাই পরের বার শরীরচর্চার পর প্রোটিন শেকের বদলে এক বাটি ডাল-সবজি খেলে, মনে রাখতেই পারেন—এই পথেই হাঁটেন হৃতিক রোশনও।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা