ফ্যাটি লিভারকে হারিয়ে জীবনের জয়!
জীবনযাত্রা বদলে যদি মরণব্যাধির দোরগোড়া থেকেও ফিরে আসা যায়? হ্যাঁ, সেটা সম্ভব। তারই এক বাস্তব উদাহরণ হৃতিক রোশনের দিদি সুনয়না রোশন। দীর্ঘ দিন ধরে ফ্যাটি লিভার-এর সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বহু লড়াইয়ের পর অবশেষে তিনি এই অসুখ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কী ভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন সুনয়না?
একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়ে শুরু যন্ত্রণার জীবন
সুনয়নাকে ২০০৭ সালে আক্রান্ত করে একটি বিরল ক্যানসার। সেই ক্যানসার শুধু লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমেই আটকে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়ে জরায়ুমুখ পর্যন্ত। সেই সময়ই আচমকাই ধরা পড়ে জন্ডিস। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রাও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। তাঁর শরীরে তখন একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা একসঙ্গে কাজ করছিল।
খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসেই ছিল মূল সমস্যা
সুনয়না অকপটে স্বীকার করেছেন, নিজের খাওয়ার উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাঁর। প্রায় প্রতিদিনই বাইরের খাবার খেতেন। “আমি যেন বাইরের খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম,” বলেন তিনি। নিয়মিত শরীরচর্চাও করতেন না। এর ফলে তাঁর লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে এবং এক সময় ধরা পড়ে তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যাটি লিভার।
বদল এল সিদ্ধান্তে
শরীর ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। অবশেষে নিজেকে থামালেন সুনয়না। জীবনযাত্রায় আনলেন আমূল পরিবর্তন। একেবারে ত্যাগ করলেন ফাস্টফুড। পরিবর্তে শুরু করলেন সুষম আহার এবং নিয়মিত ডিটক্স চা পান। এক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করল। ফ্যাটি লিভার তৃতীয় থেকে নেমে এল প্রথম পর্যায়ে।
কঠোর রুটিনে ফিরল সুস্থতা
প্রতিদিনের রুটিনে যোগ হয় শরীরচর্চা। ঘাম ঝরিয়ে, তেল-মশলা এড়িয়ে, প্রচুর জল এবং স্বাস্থ্যকর খাবারে ফিরে আসে সুস্থতা। এক বছর পর যখন ফের রক্ত পরীক্ষা করান, তখন মনে মনে ভয় কাজ করছিল। কিন্তু রিপোর্টে মিলল স্বস্তির খবর— ফ্যাটি লিভারের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। চিকিৎসকের মুখে সেই কথাটা শুনেই আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।
সুনয়নার কথায়, “এটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা উপহার।”
এই বাস্তব গল্প আমাদের শেখায়, নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপন যতই বিপদ ডেকে আনুক না কেন, নিজের সদিচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে ফিরে আসা সম্ভব।
৩৫ হাজার ফুটে ও আরামেই ভেসে থাকুন! দীর্ঘ উড়ানে আরাম পাওয়ার ৭টি সহজ টিপস