২০২৬-এর গ্র্যামিতেও হতাশা অনুষ্কা শঙ্করের!
আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্য, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য অনুরাগী—তবু গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড যেন বারবারই দূরে সরে যাচ্ছে অনুষ্কা শঙ্করের কাছ থেকে। ২০২৬ সালেও ব্যতিক্রম হল না। এ বছর দু’টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েও শেষ পর্যন্ত গ্র্যামির মঞ্চে তাঁর নাম শোনা গেল না বিজয়ী হিসেবে। সব মিলিয়ে ১৩ বার মনোনয়ন, অথচ এখনও পর্যন্ত একবারও পুরস্কার জেতা হয়নি এই বিশ্ববন্দিত সঙ্গীতশিল্পীর।
খবরে প্রকাশ, এ বছর অনুষ্কা পরাজিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক তারকা ব্যাড বানির কাছে। তাঁর অ্যালবাম ‘ইওও’ গ্র্যামি জিতে নেয়। ফলে অনুষ্কার ঝুলিতে আরও এক বার যোগ হল শুধু মনোনয়নের স্মৃতি, পুরস্কারের ট্রফি নয়।
পুরস্কার ঘোষণার আগেই অনুষ্কা নিজের অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছিলেন, “এ বছর দু’টি মনোনয়ন পেয়ে আমি গর্বিত। আমার অ্যালবাম ‘চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট’ এবং সেই অ্যালবামের প্রধান গান ‘ডেব্রেক’—এই দু’টির জন্য মনোনয়ন পাওয়া আমার কাছে খুবই বিশেষ। এগুলো আমার ১২তম এবং ১৩তম গ্র্যামি মনোনয়ন।” তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল কৃতজ্ঞতা, কিন্তু কোথাও হতাশার ছাপও যেন লুকিয়ে ছিল।
তবে এ বছর গ্র্যামি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অনুষ্কাকে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নিজেই পরিষ্কার অবস্থান নেন তিনি। অনুষ্কার কথায়, “পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের উত্তেজনা আর মানসিক চাপের ঘূর্ণিপাকে আমি নিজেকে জড়াতে চাই না।” বদলে এই সময়টায় তিনি ব্যস্ত ছিলেন ভারত সফর ও সঙ্গীত পরিবেশনায়। তাঁর মতে, পুরস্কারের থেকেও শ্রোতা-দর্শকের কাছে সরাসরি পৌঁছোনো, সঙ্গীতের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্কার এই মনোভাব নতুন নয়। বরাবরই তিনি পুরস্কারের চেয়ে সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পীসত্তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশ্বসংগীতের মঞ্চে ভারতীয় ধ্রুপদি সুরকে আধুনিকতার সঙ্গে মিশিয়ে তিনি যে আলাদা ভাষা তৈরি করেছেন, তা গ্র্যামি ট্রফি না পেলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বহু আগেই।
এ বছর গ্র্যামির মনোনয়নের তালিকায় ভারতীয় শিল্পীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্কার পাশাপাশি ‘সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম’ বিভাগে মনোনয়ন পান শঙ্কর মহাদেবন। তাঁর ব্যান্ড ‘শক্তি’ তাদের ‘মাইন্ড এক্সপ্লোশন’ (৫০তম বার্ষিকী ট্যুর লাইভ) অ্যালবামের জন্য দু’টি মনোনয়ন পেয়েছিল। একই বিভাগে ‘সায়ান’ অ্যালবামের জন্য মনোনীত হন ইন্দো-আমেরিকান জ্যাজ সুরকার ও পিয়ানোবাদক চারু সুরি।
গ্র্যামির মঞ্চে পুরস্কার অধরা থাকলেও অনুষ্কার যাত্রা থেমে নেই। বরং প্রতিটি মনোনয়নই তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের আর এক ধাপ স্বীকৃতি। হয়তো ট্রফির ঝলক নেই, কিন্তু বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে তাঁর নাম যে স্থায়ী ছাপ রেখে যাচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা